উদ্ধার হয়নি অস্ত্র, অধরা অস্ত্রধারীরাও

শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলাকারী আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ক্যাডাররা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। গত ৫ আগস্টে পট পরিবর্তনের পর তাদের কেউ পালিয়ে গেছেন বিদেশে, আবার কেউ আছেন গা ঢাকা দিয়ে। গোয়েন্দা তৎপরতা চালিয়েও তাদের হদিস পাচ্ছে না পুলিশ। উদ্ধার হয়নি তাদের প্রদর্শিত অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রও। ফলে দেশে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে অস্ত্রধারীদের সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা নগরবাসীর। এ প্রসঙ্গে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এমএমপি) কমিশনার মো. রেজাউল করিম জানান, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অস্ত্রধারীদের অনেককেই শনাক্ত করা গেছে। তবে তাদের কেউই এখন প্রকাশ্যে নেই। অস্ত্রধারীরা দেশে আছে না পালিয়েছে তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অস্ত্রধারীরা আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় অস্ত্রেরও খোঁজ মিলছে না। তবে পুলিশের বিভিন্ন টিম কাজ করছে। গোয়েন্দা তৎপরতাও চলছে। অস্ত্রধারী কিংবা অবৈধ অস্ত্রের সন্ধান মিললেই পুলিশ অভিযান চালাবে। এ ব্যাপারে পুলিশের সর্বাত্মক প্রস্তুতি রয়েছে।

সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ শাসনামলের শেষ দুই বছরে ভারতীয় চিনি চোরাকারবারে জড়িয়ে পড়েন দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। অবৈধ এ ব্যবসায় আধিপত্য বিস্তার করতে বিভিন্ন গ্রুপ ও উপগ্রুপ অস্ত্র কিনে নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের আগে এ অস্ত্রগুলো অপ্রদর্শিত থাকলেও প্রকাশ্যে আসে গত বছরের ১৮ জুলাই। ওই দিন আখালিয়ায় পুলিশের সঙ্গে অস্ত্র নিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ ক্যাডাররা। পরবর্তীতে ৪ আগস্ট সিলেট নগরের কোর্ট পয়েন্টে পুলিশের সঙ্গে মিলে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ক্যাডাররা প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে গুলি ছুড়ে ছাত্র-জনতাকে কোর্ট পয়েন্ট থেকে তাড়িয়ে দেয়। এরপর আরও কয়েকটি স্থানে ক্যাডাররা অস্ত্রের মহড়া দেয়।

ওইদিন অপসারিত সিটি মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত যুক্তরাজ্য প্রবাসী যুবলীগ নেতা রুহুল আমিনের হাতে দেখা যায় অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র। ৫ আগস্টের পর তিনি যুক্তরাজ্যে পালিয়ে গেছেন। এ ছাড়া অস্ত্রধারী সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আফতাব হোসেন খান, মহানগর যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ হান্নানও বর্তমানে যুক্তরাজ্যে আছেন। র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে জেলে মেজরটিলার ছাত্রলীগ ক্যাডার আনসার আহমদ ওরফে শুটার আনসার। বাকি অস্ত্রধারীদের কোনো সন্ধান মেলেনি এখনো। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অস্ত্রধারীদের বেশির ভাগই ভারতে পালিয়ে গেছেন। সেখান থেকে পরবর্তীতে কেউ যুক্তরাজ্যে, কেউ দুবাই পাড়ি দিয়েছেন। যারা সীমান্ত পাড়ি দিতে পারেননি তারা দেশে গা ঢাকা দিয়ে আছেন।

এদিকে, চলতি ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি দেওয়ার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সিলেটেও আত্মগোপনে থাকা নেতা-কর্মীদের কেউ কেউ প্রকাশ্যে আসার চেষ্টা করছেন। এ অবস্থায় দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে আত্মগোপনে থাকা ক্যাডাররা ফের প্রকাশ্যে আসার আশঙ্কা করছেন নগরবাসী। তবে চলমান অপারেশন ডেভিল হান্টে গা ঢাকা দেওয়া অস্ত্রধারীরা গ্রেপ্তার ও তাদের প্রদর্শিত অস্ত্র উদ্ধার হবে বলে আশাবাদী তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights