আফ্রিকার সংখ্যালঘু শ্বেতাঙ্গদের যুক্তরাষ্ট্রে পুনর্বাসনে ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান

অনলাইন ডেস্ক

দক্ষিণ আফ্রিকার সংখ্যালঘু শ্বেতাঙ্গদের যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী হিসাবে পুনর্বাসনের প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে শ্বেতাঙ্গদের প্রতিনিধিত্বকারী কয়েকটি সংগঠন।

ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ সই করে দক্ষিণ আফ্রিকায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা বন্ধ করেছেন। এ আদেশে দেশটির ভূমি নীতি নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে। ট্রাম্পের অভিযোগ, দক্ষিণ আফ্রিকা নির্দিষ্ট এক শ্রেণির মানুষের সঙ্গে খুবই খারাপ ব্যবহার করছে এবং জমি দখল করে নিচ্ছে। ব্যাপকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। সবার চোখের সামনেই তা ঘটছে।

ট্রাম্প সরাসরি শ্বেতাঙ্গ শব্দটি উচ্চারণ না করলেও নির্দিষ্ট এক শ্রেণির মানুষের দুর্ভোগের কথা বলতে সংখ্যালঘু শ্বেতাঙ্গ নির্যাতনের দিকেই অঙ্গুলি নির্দেশ করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার নতুন জমি আইন শ্বেতাঙ্গদের জন্য বৈষম্যমূলক বলে মনে করেন ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টা ইলন মাস্কও।

গত মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা একটি বিলে সই করে আইনে পরিণত করেন; যার আওতায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে কোনও ক্ষতিপূরণ দেওয়া ছাড়াই জমি দখলের বিধান রয়েছে। ট্রাম্প এই আইনে আপত্তি জানিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় দেওয়া ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা বন্ধ করেছেন। পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ কৃষক ও তাদের পরিবারকে শরণার্থী হিসাবে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র নেবে বলেও জানিয়েছেন।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা মানবিক ত্রাণকে অগ্রাধিকার দেবেন এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় মার্কিন ‘রিফিউজি অ্যাডমিশনস প্রোগ্রাম ফর আফ্রিকানার্স এর মাধ্যমে মূলত শ্বেতাঙ্গ বংশোদ্ভুতদেরকে পুনর্বাসন করবেন।” তবে ট্রাম্পের এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে শ্বেতাঙ্গ আফ্রিকানদের সবচেয়ে প্রভাবশালী দুটি সংগঠন বলেছে, তারা এ প্রস্তাব গ্রহণ করছে না।

শ্বেতাঙ্গ সংগঠন আফ্রিফোরাম এবং শ্বেতাঙ্গ সলিডারিটি মুভমেন্ট আফ্রিকানারদের বিরুদ্ধে অন্যায়কে ট্রাম্প যে স্বীকৃতি দিয়েছেন তার প্রশংসা করলেও তার সাহায্য বন্ধের পদক্ষেপে দুঃখ প্রকাশ করেছে। আফ্রিকানদের যুক্তরাষ্ট্রে পুনর্বাসনের পশ্নে ‘আফ্রিফোরাম’ এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ক্যালি কারিয়েল বলেছেন, আফ্রিকানরা যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী হলে তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয় হারিয়ে যাবে। এ ঝুঁকি তারা নিতে চায় না। ক্যালি বলেন, আমরা স্বদেশী দক্ষিণ আফ্রিকান। আমরা কোথাও যাচ্ছি না।

তথ্য সূত্র : রয়টার্স, আলজাজিরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights