ফাগুন ভালোবাসা দিবস ঘিরে আগুন রাজধানীর ফুলের বাজার

সাইফ ইমন
বসন্তের পাশাপাশি দরজায় কড়া নাড়ছে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। সেই সঙ্গে চলছে অমর একুশে বইমেলা। সবমিলিয়ে কদর বেড়েছে গোলাপ, রজনীগন্ধাসহ অন্যান্য ফুলের। রাজধানীর খুচরা ফুলের বাজারগুলোতেও বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়। স্বাভাবিকভাবেই ফুলের বাজার এখন বেশ জমজমাট। স্থানভেদে দোকানপ্রতি ৫ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকা বিক্রির আশা করছেন বিক্রেতারা। রাজধানীর শাহবাগ বটতলার ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, সবার দৃষ্টি এখন বসন্ত এবং ১৪ ফেব্রুয়ারির দিকে। আশা করছি, এবারও ভালো বিক্রি হবে। একই দিনে ফাগুন এবং ভালোবাসা দিবস হওয়ায় আশা করছি এবার ৫ লাখ টাকার ফুল বিক্রি করতে পারব। বিভিন্ন রঙের গোলাপ ফুলের পাশাপাশি গাধা ফুলের চাহিদা বরাবরই বেশি। সেই সঙ্গে নানা বিদেশি ফুলেরও চাহিদা রয়েছে।

প্রাকৃতিক কারণে বছরের শুরুর দিকে অধিকাংশ ফুলের আবাদ হয়। তবে এখন চাষিরা সারা বছরই কমবেশি ফুল চাষ করে থাকেন। এর মধ্যে বছরের শুরুর দুই-তিন মাস ভরা মৌসুম। বাকি সময়ে ঢিমেতালে বিক্রির পর বিক্রেতাদের চাওয়া থাকে নতুন বছরের শুরু থেকেই যেন চাঙা থাকে ফুলের বাজার। এ বিষয়ে মায়ের দোয়া পুষ্পবিতানের নাইসুল ইসলাম নাজু বলেন, ‘এবার ফুলের উৎপাদন ভালো। তাই ক্রেতাদের চাহিদামতো ফুল সরবরাহ করতে পারব।’ শাহবাগে ১০০টি ফুলের দোকান রয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রতিবছর ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে রাজধানীর ফুলের বাজার বেশ জমজমাট থাকে। পরপর কয়েকটি দিবস কেন্দ্র করে এ সময় ফুলের চাহিদা থাকে তুঙ্গে। বিক্রি হয় কয়েক কোটি টাকার ফুল।

উত্তরার ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বলেন, এবার বাগানমালিকরা ফুলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাই আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হবে। আশা করছি, এবার খুচরা বাজারে প্রায় ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হবে। কিছু কিছু মৌসুমি খুচরা বিক্রেতা বিভিন্ন বিশেষ দিবস কেন্দ্র করে বাড়তি দামে ফুল বিক্রি করে বলে অভিযোগ করেছেন অনেক ক্রেতা। মিরপুরের বাসিন্দা রশিদা খানম ফুল কিনতে কিনতে বলেন, ফুলের ব্যবসার মাস ফেব্রুয়ারি। এ সময়ে চাহিদাও থাকে বেশি। পাইকারিতেও কিছুটা বেশি দাম দিতে হয়। সেই প্রভাব পড়ে খুচরা বাজারে। প্রতিটি ২০ টাকার গোলাপ ৫০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গুলশান এক নম্বর মোড়ে ফুল ব্যবসায়ীরা জানান, সবচেয়ে বেশি ফুল বিক্রি হয় ১৪ ও ২১-শে ফেব্রুয়ারি। এ দুই দিন ঘিরে আগে থেকেই নেওয়া হয় বাড়তি প্রস্তুতি। ১৪ ফেব্রুয়ারি বেশি চাহিদা থাকে গোলাপের আর ২১-শে ফেব্রুয়ারি গাঁদা ফুলের। এ ছাড়া অন্যান্য রঙিন ফুলের তোড়া, খোঁপাও বিক্রি হয় প্রচুর। এ দুই দিন ফুলের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় লেগেই থাকে। তাই অনেকে বাড়তি কর্মচারী ও কারিগর চুক্তিতে রাখেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights