বৈরুতে হাসান নাসরুল্লাহর জানাজায় লক্ষ লক্ষ মানুষের ঢল

অনলাইন ডেস্ক
লেবানিজ গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ’র প্রাক্তন নেতা হাসান নাসরাল্লাহ’র জানাজায় অংশ নিতে লক্ষ লক্ষ মানুষ রাজধানী বৈরুতের একটি স্টেডিয়ামে রবিবার সমবেত হন। ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হবার প্রায় পাঁচ মাস পর নাসরাল্লাহ’র জানাজা অনুষ্ঠিত হল।

নাসরাল্লাহ মারা যান যখন ইসরায়েলি বিমান বাহিনী লেবাননের রাজধানীর দক্ষিণ শহরতলীতে অবস্থিত হিজবুল্লাহ’র কার্যক্রম পরিচালনা কেন্দ্রে ৮০টিরও বেশি বোমা ফেলে। তার মৃত্যু ইরান-সমর্থিত এই সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং রাজনৈতিক দলের জন্য বড় মাপের ধাক্কা ছিল। নাসরাল্লাহ হিজবুল্লাহকে মধ্যপ্রাচ্যের একটি শক্তিশালী বাহিনীতে পরিণত করেছিলেন।

নাসরাল্লাহ’র জানাজায় ব্যাপক সংখ্যায় অংশগ্রহণের জন্য হিজবুল্লাহ তাদের সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানায়। ধারণা করা হচ্ছে, তারা দেখাতে চেয়েছিল ইসরায়েলের সাথে ১৪ মাসের যুদ্ধে তাদের অনেক সিনিয়র রাজনৈতিক এবং সামরিক নেতার মৃত্যুসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পরও দলটি শক্তিশালী রয়ে গেছে।

‌‘এই বিশাল জনসমাবেশ প্রমাণ করে যে, হিজবুল্লাহ এখনো লেবাননের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল’ ,বলছেন সংসদ সদস্য এবং দলের রাজনৈতিক শাখার সদস্য আলি ফায়াদ যিনি জানাজায় যোগ দেন। ‘এর মানে, হিজবুল্লাহ দুর্বল বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে যত কথা, সবই ভুল।’

সাহার আল-আতার, যিনি লেবাননের বেকা উপত্যকা থেকে জানাজার জন্য বৈরুতে এসেছেন, বলেন যে, নাসরাল্লাহ’র জানাজায় অংশ নিতে “আমরা এমনকি গুলি উপেক্ষা করে আসতাম।”

নাসরাল্লাহ’র সাথে রবিবার তার ভাগ্নে এবং দলের নেতা হিসেবে উত্তরসূরি হাশেম সাফিয়েদ্দিন-এর জানাজাও অনুষ্ঠিত হয়। নাসরাল্লাহ’র মৃত্যুর কয়েক দিন পরেই বৈরুতের শহরতলিতে ইসরায়েলি হামলায় সাফিয়েদ্দিন মারা গিয়েছিলেন।

নাসরাল্লাহকে বৈরুতে কবর দেয়া হবে, কিন্তু সাফিয়েদ্দিনকে দক্ষিণ লেবাননে তার নিজ শহরে দাফন করা হবে। এর আগে দু’জনকেই সাময়িকভাবে গোপন স্থানে কবর দেয়া হয়েছিল।

দুজনের কফিন যখন বিশাল জনতার মাঝ দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন কফিন বহনকারী গাড়িতে দাঁড়িয়ে থাকা কর্মীরা ফুল ছুঁড়ে দিচ্ছিল। https://youtu.be/Z89YLR4RJU8

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights