আইসিসিবিতে জমেছে মেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
উৎপাদনশীল, মেধাবী, অগ্রসরমান জাতি গঠনে পুষ্টি চাহিদা পূরণের বিকল্প নেই। আর পুষ্টি চাহিদা পূরণে খাদ্য উৎপাদনকারী মিলারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। উৎপাদন ও সংরক্ষণ পর্যায়ে খাদ্যের যথাযথ মান বজায় রাখা এবং খাবারে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেল যুক্ত করার মাধ্যমে তারা দেশের মানুষের পুষ্টিহীনতা দূর করতে বড় অবদান রাখতে পারে। বর্তমানে আটা, সয়াবিন তেল, চাল, লবণসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে অনেকে ভিটামিন ও মিনারেল যুক্ত করছে। বৃহৎ পরিসরে পুষ্টিহীনতা দূর করতে খাদ্যে ভিটামিন ও মিনারেল যুক্ত করার পরিধি বৃদ্ধি ও মান নিয়ন্ত্রণ জরুরি। গতকাল ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি)-এর ৪ নম্বর (নবরাত্রী) হলে ‘মিলার্স ফর নিউট্রিশন (পুষ্টির জন্য মিলার)-বাংলাদেশ লঞ্চ’ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। বাপা ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপোর দ্বিতীয় দিনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশের খাদ্য ও পুষ্টি খাতের সরকারি-বেসরকারি স্টেকহোল্ডাররা অংশগ্রহণ করেন। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর মহাপরিচালক এস এম ফেরদৌস আলম। আয়োজনে সহযোগিতা করে টেকনোসার্ভ। অনুষ্ঠানে ‘পুষ্টির জন্য মিলার’- এর লোগো উন্মোচন এবং খাদ্যের মান সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ‘চ্যাম্পিয়নস অব ফুড ফর্টিফিকেশন অ্যান্ড নিউট্রিশন অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়। স্বাগত বক্তব্য দেন টেকনোসার্ভের সিনিয়র প্র্যাকটিস লিডার মনোজিৎ ইন্দ্রা। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এস এম ফেরদৌস আলম বলেন, উৎপাদনশীল, স্বাস্থ্যকর ও অগ্রসরমান জাতি গঠনে পুষ্টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। সব খাবারই খাবার, কিন্তু সব খাবার স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর নয়। খাবারের মধ্যে পুষ্টি না থাকলে সেটা যেমন শরীর খারাপের কারণ হয়, তেমন দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও বাধা হয়ে দাঁড়ায়। পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহে মিলাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তাঁরা শুধু উৎপাদনকারী নন, তাঁরা জনস্বাস্থ্যের গেটকিপার। এডিবল অয়েলে ভিটামিন এ যুক্ত করা হয়েছে। লবণে আয়োডিন যুক্ত করা হয়েছে। চালে বিভিন্ন রকম পুষ্টি উপাদান যুক্ত করা হয়েছে। খাবারের মান নিয়ন্ত্রণের জন্য বিএসটিআই কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু এটা একা বিএসটিআইয়ের পক্ষে সম্ভব নয়। সবার, বিশেষ করে মিলারদের সহযোগিতা প্রয়োজন। মূল প্রবন্ধে বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদ (বিএনসিসি)-এর পরিচালক তাহেরুল ইসলাম খান বলেন, সুস্থ থাকতে খাবারের মধ্যে ভিটামিন, জিঙ্ক, আয়রনসহ নানা মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস থাকা প্রয়োজন। আয়রনের অভাবে অ্যানিমিয়া হয়। মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস ঘাটতিতে শিশুরা খর্বাকৃতি, কম ওজন ও কম বুদ্ধিসম্পন্ন হয়। সহজেই নানা রোগে আক্রান্ত হয়। বাংলাদেশে ভিটামিন এ, ডি, আয়রন, জিঙ্কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও মিনারেলের ঘাটতি রয়েছে। লবণের মাধ্যমে আয়োডিনের ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশ বড় সাফল্য অর্জন করেছে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর মাধ্যমে ফর্র্টিফায়েড চাল বিতরণ করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বাজারেও এ ফর্টিফায়েড চাল পাওয়া যাচ্ছে। অনুষ্ঠানে খাদ্যে পুষ্টি উপাদান মিশ্রণ নিয়ে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় পুষ্টিসেবা (এনএনএস)-এর সাবেক লাইন ডিরেক্টর ডা. এস এম মুস্তাফিজুর রহমান, এসিআই ফুডস অ্যান্ড কমোডিটি ব্র্যান্ডসের চিফ বিজনেস অফিসার ফারিয়া ইয়াসমিন, বাংলাদেশ ফর্টিফায়েড রাইস মিল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ জুলফিকার মাহমুদ, ইফাদ গ্রুপের এফএমসিডি ডিভিশনের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মাহবুব বাসেত এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গুলজারুল আজিজ। উপস্থিত ছিলেন টেকনোসার্ভ বাংলাদেশের কান্ট্রি প্রোগ্রাম ম্যানেজার (খাদ্য সুরক্ষিতকরণ) গুলজার আহমেদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights