আইসিসি-পিসিবি’র চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি বিতর্ক অব্যাহত

অনলাইন ডেস্ক

দুবাইয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে জয়ী হয়েছে ভারত। পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ এবং ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই’র প্রধান রজার বিনি। কিন্তু সেখানে পাকিস্তান বোর্ডের কোনো ব্যক্তিকে দেখা যায়নি। অথচ পাকিস্তান এই চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের দায়িত্বে ছিল। আর তা নিয়েই শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক।

ওইদিন খেলা শেষ হওয়ার পরেই পাকিস্তানের একাধিক প্রাক্তন ক্রিকেটার প্রশ্ন তোলেন কেন পাকিস্তান ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (পিসিবি) কোনো ব্যক্তি ওই মঞ্চে গেলেন না? তাদের অভিযোগ ছিল পিসিবির বর্তমান গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটারদের বক্তব্য, যেহেতু এবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আয়োজক দেশ ছিল পাকিস্তান, তাই তাদের প্রতিনিধির পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে থাকা উচিত ছিল।

এই প্রশ্নের উত্তরে মুখ খুলেছে পিসিবি। তারা জানিয়েছে, ওই দিনের অনুষ্ঠান মঞ্চে তাদের আমন্ত্রণই জানানো হয়নি। পাকিস্তান আইসিসি’কে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, ওই দিন দুবাইয়ে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তান বোর্ডের সিওও তথা চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ডিরেক্টর সুমাইর আহমেদ। কিন্তু তাকে পুরস্কারের মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

আইসিসি-র বক্তব্য, পিসিবি-র এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। কারণ, আইসিসি-র নিয়ম অনুযায়ী পুরস্কার মঞ্চে সাধারণত বোর্ড বা আইসিসি-র কর্মকর্তাদের ডাকা হয়। কর্মীদের নয়। সুমাইর পাকিস্তান বোর্ডের কর্মকর্তা নন, উচ্চপদস্থ কর্মচারী, তাই তাকে ডাকা হয়নি। পাকিস্তান বোর্ডের কর্মকর্তারা ওই দিন দুবাইয়ে উপস্থিত ছিলেন না।

আইসিসি জানিয়েছে, পিসিবি’র চেয়ারম্যান মহসিন নকভিকে ওই দিন আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল আইসিসি’র তরফে। কিন্তু তিনি সেদিন দুবাইয়ে থাকতে পারেননি। পাকিস্তান বোর্ড জানিয়েছে, প্রাদেশিক মন্ত্রী হিসেবে দেশে তার কিছু কাজ ছিল, সে কারণে নাকভি সেদিন থাকতে পারেননি।

আইসিসি’র বক্তব্য, নিয়ম অনুযায়ী মঞ্চে কেবলমাত্রক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি, সহ-সভাপতি, চেয়ারম্যান বা সচিবকে ডাকা যায়। ওই দিন দুবাইয়ে পিসিবি’র এই পর্যায়ের কোনো ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন না।

পাকিস্তানের অবশ্য আইসিসি’র বিরুদ্ধে আরো বেশ কিছু অভিযোগ আছে। ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচ চলাকালীন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির লোগো বদল নিয়েও তারা অভিযোগ তুলেছেন। এই পরিস্থিতি আইসিসি’র সঙ্গে পিসিবি’র বিতর্ক আরো তীব্র হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

উল্লেখ্য, এই অভিযোগ অন্য মাত্রা পাচ্ছে কারণ, আইসিসি’র চেয়ারম্যান এখন জয় শাহ। তিনি আবার ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ছেলে।

সূত্র : ডয়চে ভেলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights