ভারতে বাংলাদেশিকে হেনস্তা, ছেলেকে ছাড়াই পাঠানো হলো দেশে

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরের ওপারে ভারতের চ্যাংরাবান্ধায় বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী এক ব্যক্তিকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে চরম হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজধানীর পল্লবী এলাকার বাসিন্দা আজাদুর রহমান আজাদ নামে ওই বাংলাদেশি বুড়িমারী দিয়ে সকালে ভারতে প্রবেশ করেন। বিকালে তাকে সেখান থেকে ফেরত পাঠানো হয়। দার্জিলিংয়ের কার্শিয়াংয়ের একটি বোর্ডিং স্কুলে পড়ুয়া ছেলেকে আনতে ওই ব্যক্তি ভারতে প্রবেশ করেছিলেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চ্যাংড়াবান্ধায় এক কাস্টম কর্মকর্তার ইন্ধনে কয়েকজন গাড়িচালক ও মানি এক্সচেঞ্জ কর্মচারীর যোগসাজসে তাকে হেনস্তা করার ঘটনা ঘটে। হেনস্তার শিকার আজাদুর রহমান রাতে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।

তিনি জানান, ভারতীয় ইমিগ্রেশনের কার্যক্রম শেষে তাকে কোনও গাড়িতে উঠতে না দিয়ে চ্যাংরাবান্ধা ইমিগ্রেশন থেকে চ্যাংরাবান্ধা বাইপাস পর্যন্ত হেঁটে যেতে বাধ্য করে কিছু মানুষ। সেখানে একটি ট্রাফিক পুলিশ বক্সে আশ্রয় নিলে সেখানেও তাকে ঘিরে ধরা হয়। পরে সেখান থেকে আজাদকে মেখলিগঞ্জ থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে সন্ধ্যায় তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। ফেরার সময়ও সেদেশের ইমিগ্রেশন পুলিশের সামনে ওই বাংলাদেশিকে হেনস্তার চেষ্টা করা হয়।

আজাদুর রহমান অভিযোগ করেন, কোনও দালাল না ধরে নিজে নিজেই ভারতীয় কাস্টমস ও ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করা এবং কাস্টমস কর্তকর্তার দেখিয়ে দেওয়া মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রে ডলার না ভাঙানোয় সেদেশের কয়েকজন গাড়িচালক ও মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রের কর্মচারীদের লেলিয়ে দেওয়া হয়। মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয় যে তিনি ভারতে প্রবেশ করে সেদেশকে গালাগালি করেছেন।

এছাড়াও একপর্যায়ে আজাদ প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক হেঁটে চ্যাংড়াবান্ধা সড়কের ট্রাফিক পুলিশের শরণাপন্ন হন। এ সময় মেখলিগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি ও চ্যাংড়াবান্ধা পুলিশ ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ডেকে আনেন ভারতীয় কতিপয় চালক ও মানি এক্সচেঞ্জ কর্মচারী। এ সময় ওই কর্মচারীরা তাকে (আজাদ) ঘিরে ধরে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে করতে ভিডিও ধারণ করতে থাকেন। তারা (কর্মচারীরা) আজাদ ভারতকে নিয়ে আপত্তিকর কথা বলেছেন বলে উচ্চবাচ্য করতে থাকেন। অবস্থা বেগতিক দেখে আজাদকে মেখলিগঞ্জ থানা পুলিশ থানার ভেতরে নিয়ে যান। মেখলিগঞ্জ থানা পুলিশ পরিস্থিতি অনুযায়ী ইমিগ্রেশন পুলিশকে একটি লিখিত (ফরওয়ার্ডিং) দিয়ে পুলিশের গাড়িতে চ্যাংড়াবান্ধায় পাঠায়।

চ্যাংড়াবান্ধা ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে ভারতের ভেতরে না গিয়ে বাংলাদেশে ফিরে যেতে পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে চ্যাংড়াবান্ধা ইমিগ্রেশন পুলিশ ভিসা বাতিল করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর সময় ওই কর্মচারী ও চালকরা ক্ষমা না চাইলে বাংলাদেশে ফিরে যেতে দেবেন না বলে পুলিশ ও বিএসএফকে জানান। এ সময় জামায়াতি ও বাংলাদেশি আতঙ্কবাদী, ধর ধর এবং লাথি মার বলে চিৎকার করতে থাকেন ওই কর্মচারী ও চালকেরা। বিকালে আজাদকে ফেরত পাঠায় ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ।

এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে রাতে সাংবাদিকদের কাছে ঘটনা তুলে ধরেন আজাদ। তিনি বলেন, চ্যাংড়াবান্ধায় কোনও দালালের মাধ্যমে কাজ না করায় এবং ওইখানকার কাস্টমসের লোকের পছন্দমতো মানি এক্সচেঞ্জ দোকানে টাকা বিনিময় না করায় কিছু গাড়ি চালক মানি এক্সচেঞ্জ দোকোনের কর্মচারীদের দিয়ে মিথ্যা কথা ছড়িয়ে আমাকে হয়রানি ও অপমান করা হয়েছে। ঈদে আমার ছেলেকে আনতে পারিনি। আমি ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশি হাইকমিশন ও বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এ ঘটনার তদন্ত করে মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার বিচার দাবি করছি।

এ ব্যাপারে বুড়িমারী ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম বলেন, শুনেছি ওই ব্যক্তি ভারতে গিয়ে শেয়ারিং গাড়িতে উঠা নিয়ে চালকের সঙ্গে বিতর্কে জড়ান। ইন্ডিয়া নিয়ে নাকি আপত্তিকর কথা বলায় স্থানীয়রা উত্তেজিত হয়। পরে তাকে ফেরত পাঠায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights