বাকি জিম্মিদের মুক্তি দিতে ইসরায়েলকে তিন শর্ত দিলো হামাস

অনলাইন ডেস্ক
ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইসরায়েলের প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস। অবশ্য পাল্টা একটি চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে তারা। তাদের প্রস্তাবটি হলো, ইসরায়েল যদি গাজায় না যুদ্ধ করে ফিলিস্তিনি কারাবন্দিদের মুক্তি দেয়, তাহলে গাজায় বন্দী জিম্মিদের ফেরত দেবে তারা। এ তথ্য জানিয়েছেন খলিল আল–হায়া নামের হামাসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে হামাসের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।

টেলিভিশনের সম্প্রচার করা বক্তব্যে আল–হায়া বলেন, ইসরায়েল যে অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে, সেটির সঙ্গে হামাস একমত নয়। কারণ, গত মাস ধরে গাজায় নতুন করে যে ভয়াবহ হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল। এই চুক্তির মাধ্যমে তা থামানোর প্রক্রিয়া আরও বিলম্বিত করবে ইসরায়েল।

হামাসের এই নেতা উল্লেখ করেন, নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের জন্য ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার সরকার আংশিক চুক্তিকে ব্যবহার করতে চাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ওই চুক্তির ভিত্তিই হলো (ফিলিস্তিনিদের) ধ্বংস ও অনাহারে রাখার মাধ্যমে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া। এমনকি সব জিম্মির জীবনের বিনিময়ে হলেও তারা তা করতে চায়।

ইসরায়েল সরকারের হিসাব অনুযায়ী, হামাসের হাতে গাজায় এখনো বন্দি রয়েছেন ইসরায়েলি ৫৯ জন জিম্মি। তাদের মধ্যে মাত্র ২৪ জন জীবিত আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। খলিল আল-হায়া বলেন, যুদ্ধ বন্ধ, ফিলিস্তিনি কারাবন্দিদের মুক্তি এবং গাজা পুনর্গঠন— এই তিন শর্ত বাস্তবায়নের বিনিময়ে হামাসের হাতে বন্দী থাকা বাকি সব জিম্মিকে মুক্তি দিতে বড় পরিসরে আলোচনার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন তারা। খবর রয়টার্সের।

২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর গাজায় যুদ্ধবিরতি শুরু হয় গত ১৯ জানুয়ারি থেকে। পরে ১৮ মার্চ যুদ্ধবিরতি ভেঙে আবার হামলা শুরু করে ইসরায়েল। এই সময়ে মধ্যে ৩৮ জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছিল হামাস। উপত্যকাটিতে আবার যুদ্ধবিরতির জন্য মিসরের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে সেই আলোচনায় এখন পর্যন্ত সামান্যই অগ্রগতি দেখা গেছে।

এমন পরিস্থিতিতে জিম্মিদের মুক্তি দেওয়ার জন্য হামাসের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের মুখপাত্র জেমস হেউইট। তিনি বলেন, হামাসের বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, তারা শান্তির প্রতি আগ্রহী নয়, বরং চিরস্থায়ী সহিংসতা চাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যে শর্তগুলো দিয়েছে, তাতে কোনো বদল আসেনি— জিম্মিদের মুক্তি দিন, না হয় নরকের মুখে পড়ুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights