শিক্ষার্থীর সঙ্গে রেজিস্ট্রারের অসৌজন্যমূলক আচরণে উদ্বেগ জবি হিউম্যান রাইটস সোসাইটির
মেহেদী হাসান, জবি প্রতিনিধি;
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে লিখিত অভিযোগ দিতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. শেখ মো. গিয়াস উদ্দিনের অসৌজন্যমূলক ও অমানবিক আচরণের শিকার হয়েছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি ইভান তাহসীব। এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় হিউম্যান রাইটস সোসাইটি।
বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক কামরুজ্জামান কায়েস স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত সোমবার (২২ এপ্রিল) শহীদ সাজিদ একাডেমিক ভবনের নিচতলা থেকে একাধিক সাইকেল চুরির ঘটনার প্রেক্ষিতে নিরাপত্তা চেয়ে লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে রেজিস্ট্রার ইভান তাহসীবের প্রতি অবমাননাকর আচরণ করেন। রেজিস্ট্রারের মন্তব্য—”গেট আউট! ওকে বের করে দাও!” ও “পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন পড়তে আসো? এলাকার কলেজে পড়লেই তো পারতে!”—এই ধরনের বক্তব্যকে সংগঠনটি চরম অসৌজন্যমূলক এবং শিক্ষার্থীর মৌলিক অধিকার, সম্মান ও মানবিক মর্যাদার পরিপন্থী বলে আখ্যায়িত করে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা গ্রহণ, নিরাপত্তা দাবি করা এবং প্রশাসনের কাছে জবাবদিহিতা চাওয়া প্রতিটি শিক্ষার্থীর সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার রূঢ় বা অপমানজনক ব্যবহারের মাধ্যমে দমন করার চেষ্টা একটি গণতান্ত্রিক শিক্ষাব্যবস্থার জন্য হুমকিস্বরূপ।
সংগঠনটি রেজিস্ট্রারের বক্তব্য—”বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মালামালের দায় নেয় না”—কে দায়িত্বহীনতা ও প্রশাসনের উদাসীন মানসিকতার প্রতিফলন বলেও অভিহিত করে। তারা বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধু পাঠদানেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করাও তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
ঘটনার প্রেক্ষিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় হিউম্যান রাইটস সোসাইটি চার দফা দাবি তুলে ধরে:
১। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন।
২। রেজিস্ট্রারের অসদাচরণের জন্য যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ।
৩। শিক্ষার্থীদের মালামালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় পার্কিং স্থানে তাৎক্ষণিক কার্যকর পদক্ষেপ।
৪। প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণতান্ত্রিক ও মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষায় নীতিগত ব্যবস্থা গ্রহণ।
সংগঠনটি আরো জানায়, তারা সবসময় শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার, সম্মান ও নিরাপত্তার পক্ষে অবস্থান নেয় এবং প্রশাসনিক দায়িত্বহীনতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াকে প্রতিটি সচেতন নাগরিকের নৈতিক কর্তব্য বলে মনে করে।
