তিন দফা দাবিতে অনুষ্ঠিত ‘লংমার্চ টু যমুনা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনার উদ্দেশ্যে
মেহেদী হাসান
জবি প্রতিনিধি
তিন দফা দাবিতে অনুষ্ঠিত ‘লংমার্চ টু যমুনা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনার উদ্দেশ্যে সুগন্ধায় প্রবেশের সময় প্রতিনিধি দলে থাকা শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোশাররফ হোসেনকে ক্লিয়ারেন্স দেখানোর নামে বাধা প্রদান এবং দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।
বুধবার (১৪ মে) বিকেলে চলমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী আন্দোলন, পুলিশি হামলা এবং তিন দফা দাবির প্রেক্ষাপটে আলোচনা করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমিন, রেজিস্ট্রার ও প্রক্টর প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে যান।
ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রিফাত হাসান জানান, “মোশাররফ স্যার প্রতিনিধি হিসেবে আলোচনার জন্য সুগন্ধায় যান। যেহেতু আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, তার যাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু সেখানে তাকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ক্লিয়ারেন্স দেখানোর নামে আটকে রাখে এবং অপমানজনক আচরণ করে।”
ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. নাসির আহমেদ বলেন, “উপদেষ্টাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, শিক্ষক সমিতি থেকে তিনজন সদস্য আলোচনায় অংশ নেবেন। উপদেষ্টা মাহফুজ আমাদের জানিয়েছিলেন, আলোচনা শেষে শিক্ষার্থীদের সামনে একটি ঘোষণা দেবেন। আমি রইস স্যার ও মোশাররফ স্যারকে অনুরোধ করে নিয়ে যাই, কিন্তু সেখানে পৌঁছালে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা ক্লিয়ারেন্স দাবি করে এবং বাধা দেয়।”
অধ্যাপক ড. মোশাররফ হোসেন বলেন, “এভাবে ডেকে নিয়ে অপমান করার কোনো মানে হয় না। আমি আগেই ক্লিয়ারেন্স দিয়েছি, তাহলে আবার কেন সেটা দেখাতে হবে? এটা সুস্পষ্ট অপমান।”
এই ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। তারা “শিক্ষকের অপমান, মানিনা মানবো না”, “বৈষম্যের গদিতে, আগুন জ্বালাও একসাথে”, “জ্বালোরে জ্বালো, আগুন জ্বালো”—ইত্যাদি স্লোগানে সুগন্ধার সামনের এলাকাকে উত্তাল করে তোলে।
