শিক্ষার্থীদের লংমার্চ সংবাদ সংগ্রহের সময় পুলিশের লাঠিচার্জে গুরুতর আহত জবি প্রেসক্লাব সভাপতি
মেহেদী হাসান
জবি প্রতিনিধি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ‘লং মার্চ টু যমুনা’ কর্মসূচি কভার করতে গিয়ে পুলিশের লাঠিচার্জে গুরুতর আহত হয়েছেন জবি প্রেসক্লাবের সভাপতি সুবর্ণ আস সাইফ।
আজ বুধবার (১৪ মে) বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’র উদ্দেশে প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থী ‘লং মার্চ’ শুরু করেন। মিছিলটি গুলিস্তান জিপিও মোড় ও জাতীয় মৎস্য ভবনের সামনে স্থাপিত দুটি পুলিশ ব্যারিকেড অতিক্রম করে কাকরাইল মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ সদস্যরা আকস্মিকভাবে টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।
শিক্ষার্থীরা পিছু না হটলে পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে লাঠিচার্জ শুরু করে। এসময় শিক্ষক, নারী শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক—কাউকেই ছাড় দেয়নি পুলিশ। লাঠির আঘাত গিয়ে পড়ে জবি প্রেসক্লাব সভাপতি সুবর্ণ আস সাইফের পিঠের ওপরের অংশে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার পরেও সুবর্ণ আস সাইফ সাংবাদিক হিসেবে তার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছিলেন। তবে ধীরে ধীরে পিঠের ব্যথা তীব্র আকার ধারণ করলে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হাসপাতালে এক্স-রে পরীক্ষায় দেখা যায়, তার পিঠের কলারবোন (clavicle bone) ভেঙে গেছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আজ রাতেই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে স্থানান্তর করার কথা রয়েছে।
সুবর্ণ আস সাইফ বলেন, “আমি সংবাদকর্মী হিসেবে শুধু আমার দায়িত্ব পালন করছিলাম। কিন্তু রাষ্ট্রীয় বাহিনীর আচরণে মনে হয়েছে, ক্যামেরা ও কলমকেও এখন ভয় পায় তারা। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিকে দমন করতে গিয়ে যে হিংস্রতা তারা দেখিয়েছে, তা কোনো সভ্য রাষ্ট্রের পরিচয় হতে পারে না। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে পুলিশ বাহিনীর থেকে এমন আচরণ আশা করিনি৷ আমি আহত হয়েছি, কিন্তু সত্য বলার সাহস হারাইনি
