কেন বিপ্লব হলো এবং ইউনুস সরকার এলো?

আহমদ জাকি সুমন মহসীন এবং সামিন মালিয়াত ঐশ্বর্য

স্বৈরাচারী ফ্যাস্টিট পতিত সরকারের দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের দু:শাসন ও নিপীড়ন নির্যাতন সমাজের প্রতিটি স্তরে দুর্বিস্ব:হ হয়ে উঠেছিল। বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, কেউ চাপের মুখে, কেউ বা জনগণের সামনে মূলা ঝুলিয়ে ঈদের পরে আন্দোলন হবে বলে জনগণকে আশ্বস্ত করলেও সে সকল ওয়াদা ছিল মূলত মানুষ ভুলানো। রাজনৈতিক দল, সংবাদপত্র, সুশীল সমাজ এবং সর্বপোরি দেশের সাধারণ জনগণের নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করার সামান্যতম স্বাধীনতাটুকু কেড়ে নিয়েছিল ফ্যাস্টিট আওয়ামীলীগ সরকার। যখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, আমলাতন্ত্র, পুলিশ, প্রশাসন,বুদ্ধিজীবী, সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ সুশীল সমাজ নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে ব্যস্ত ছিল, তখনই ছাত্রজনতার একটি বিন্দুর স্পর্শে তা রূপ নেয় ফ্যাসিস্ট বিরোধী স্বৈরাচারক্ষেদা আন্দোলন রূপে। জুলাই আগস্টের বিপ্লবে নির্বাচন চাই এমন কোনো প্লাকার্ড বা ব্যানার নিয়ে ছাত্রজনতা আন্দোলন করে নি। প্রথমত ছাত্ররা তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবিতে রাজপথে নামেন। পরবর্তী ১৬ বছরের স্বৈরাচারের দু:শাসনে জগৎদল পাথরের মতো চেপে থাকা মানুষের আকাঙ্খাগুলো একাত্বতা ঘোষণা করে ছাত্রদের সাথে। এবছরেও সর্বপ্রথম ছাত্রজনতাই ফ্যাস্টিট স্বৈরাচারকে উৎখাত করার এক দফা দাবিতে রাজপথে নামে নিজের প্রাণ বিসর্জন দিল তখন পর্যন্ত সংবাদপত্রসহ রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ এবং অভিভাবকেরা রাস্তায় নামেন নি। শহীদ সাঈদ, শহীদ মুগ্ধের মতো যখন আরও অনেক অজানা প্রাণ অঝরে শহীদ হলো, যখন বাড়িতে বসে থাকা অবুঝ শিশুটি পুলিশ, বিডি, আর্মির গুলিতে নিহত হলো, যখন বাবা মায়ের বুক ফাঁকা হলো নিজ সন্তানের আত্মত্যাগে, তখন ছাত্রজনতার সেই ক্ষোভ বিষ্ফোরিত হলো। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, অভিভাবক, সুশীল সমাজ এবং সাংবাদিকদের বোধগম্য হলো যে তার অর্থের টাকায় কেনা বুলেটটি হয়তো তার সন্তানের জন্যই অপেক্ষা করছে। যখন দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাবা মায়ের সামনে সন্তানকে হত্যা করেছে, তখন এদেশের অভিভাবক রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সমাজের দর্পন মহান দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবাদিকরা ধীরে ধীরে জেগে উঠে। মাত্র কয়েক দিনের মাথায় ছাত্রর সাথে অন্যান্য বাকি ফোর্সগুলো যুক্ত হয়ে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার। ১৬-১৭ বছরের জগৎদল পাথরের মতো বসানো দু:শাসনকে উৎখাতিত করলেন। ব্যক্তিগতভাবে ড. ইউনুসের নামে অনেক সমালচনা থাকলেও বিশ্বব্যাপী তার গ্রহণযোগ্যতা বাংলাদেশের যেকোনো মানুষের থেকে বেশি। ৮৫ বছর বয়স্ক এই বৃদ্ধ জননায়ক যাকে ছাত্রজনতা অনুরোধ করে প্রধান উপদেষ্টার পদ বা দেশের দুঃশাসন দুর করে দেশের প্রতিটি সুযোগের অনুরোধ জানায়। পত্র পত্রিকা থেকে আমরা জানতে পাই ঐ সময় সেনা প্রধান কোনো এক ছাত্রের সাথে একান্ত ব্যক্তিগত কথায় বলে, প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ইউনুসকে মেনে নিতে গিয়ে বুকের উপর পাথর চাপা দিয়েছিলেন। নিতান্ত অঙ্গতা থেকেই বলছি, দেশের স্বরাষ্ট্র অথবা সেনাবাহিনী কিংবা আমলাতন্ত্রে সাংবিধানিকভাবে এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক কোনো বক্তব্য দেয়ার অধিকার নাই। তথাপি ড. ইউনুসের নেয়া কঠোর সিদ্ধান্ত এবং বিশ্বব্যাপী তার যোগাযোগ ও জনপ্রিয়তার কারণে বর্তমানে সেই ছাত্রজনতা কর্তৃক বিপ্লবের নির্বাচিত অন্তর্বতীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে সরানোর জন্য প্রতিবেশী দেশের সাথে আতাত করে কিছু ব্যক্তি অত্যন্ত তৎপর হয়ে উঠেছেন। দীর্ঘ ১৬-১৭ বছর তাদের মুখ থেকে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ত, দেশ বিক্রি ইত্যাদির কথা শুনানোা গেলেও বন্ধুব্যাপী রাষ্ট্রের সংবাদ মাধ্যমে তারা নিজ দেশের ছাত্রজনতার বিপক্ষে কথা বলেন। গতকাল বাংলাদেশের বৃহত্তর জনসমর্থিত রাজনৈতিক দল বিএনপি এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হঠাৎ করেই ১৬-১৭ বছর পর মাত্র ৬ মাসের মাথায় অন্তর্বতীকালীন সরকারকে জাতীয় নির্বাচন দিতে অনেকটা আল্টিমেটাম দিয়েছে। অথচ ওয়ান ইলেভেনের পর থেকে উনার মুখ থেকে অদ্যবদী পর্যন্ত নির্বাচনের কথা শুনা যায় নি। বিদেশে বসে তিনি বারংবার স্বৈরাচারী ফ্যাস্টিট হাসিনার পদত্যাগের কথাই বলেছেন। আর যখন ছাত্রজনতার রক্তে রঞ্জিত রাজপথে স্বৈরাচারী ফ্যাস্টিট মুক্ত বাংলাদেশ তখনই ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন হক চাওয়াটা তার কতটা রাজনৈতিক বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দেয় তা অনেককেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। অথচ অন্তর্বতীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মাত্র ১২ মাসের মধ্যে ১৭ বছরের রাখা স্বৈরাচারের দোসরদের একটি স্বাধীন মুক্ত বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে দাঁড়া হয়ে থাকবে তা সম্ভাব্য নয় জেনেও ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে নির্বাচন দিবে বলে বারবার প্রত্যয়ব্যক্ত করে আসছেন। এই দেশটি কোনো রাজনৈতিক দলের পৈত্রিক সম্পত্তি নয়। এমনকি ড. ইউনুসেরও নয়। এটি ১৮ কোটি জনগণের বাংলাদেশ। স্বাধীনতার পর থেকেই মাত্র অল্প কিছুদিনের ব্যবধানে এদেশ প্রকান্তরে পার্শ্ববর্তী বন্ধুবেশী হায়নাদের অঙ্গরাজ্য হয়েছিল। আর দিন শেষে স্বৈরাচারী ফ্যাস্টিট সরকারের প্রধান বন্ধুবেশী পার্শ্ববর্তী দেশ ভ্রমণ করে এসে বলেছিলেন, (ভারতকে আমরা যা দিয়েছি, তা তারা কোনো দিনও ভুলতে পারবে না।)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights