৪ গোষ্ঠী মিলে গঠন করেছে সাবমেরিন ক্যাবল কনসোর্টিয়াম : পিনাকী
অনলাইন ডেস্ক
সাবমেরিন ক্যাবল কনসোর্টিয়াম নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন জনপ্রিয় অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও লেখক পিনাকী ভট্টাচার্য। তিনি জানান, চারটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী মিলে গঠন করেছে একটি প্রাইভেট সাবমেরিন ক্যাবল কনসোর্টিয়াম।
যার মূল উদ্দোক্তা
১। সামিট গ্রুপ (আজিজ খান / ফরিদ খান)
২ মেটা কোর (নসরুল হামিদের ছেলে)
৩/ সিডি নেট (আব্দুল হামিদের ছেলে)
৪/ লেভেল-৩ (নাফিজ সারাফাত)
এরা সবাই আওয়ামী লীগের লোকজন। এ সেই কিশোরের কার্টুনের ‘আমি নাফিজ সারাফত, জানি ব্যাংক মারার ধারাপাত’ কিশোরের কার্টুনে এই লাইন এড করার জন্য নাফিজ সারাফাত মুশতাককে হ / ত্যা করিয়েছে।
এই প্রাইভেট ক্যাবল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আপত্তি জানিয়েছে। আপত্তির মূল কারণগুলো হল:
১/ সাত বছরের পুরনো, যা এর লাইফসাইকেলের অর্ধেক পার করে ফেলেছে।
২/ ওরা আনবে চীনা ক্যাবল, যেটিকে তারা untrusted হিসেবে চিহ্নিত করছে।
৩/ ক্যাবলটি স্থাপন হলে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হাইপার স্কেলার কোম্পানিগুলোর বাংলাদেশে প্রবেশ ব্যাহত হবে।
ফলে বাংলাদেশের নিজস্ব ক্যাবল নেটওয়ার্ক (SEA-ME-WE ৪, ৫, এবং আসন্ন ৬) অলস পড়ে থাকবে।
এই কারণে বাংলাদেশ সরকার এই ক্যাবল প্রকল্পের কাজ আপাতত স্থগিত রেখেছে। তবুও সামিট ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো বিভিন্ন মাধ্যমে তদবির চালিয়ে যাচ্ছে।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, এই তদবিরকারিদের মধ্যে একজন সক্রিয় ব্যক্তি হচ্ছে, বিশিষ্ট কচুক্ষেতি অনুসন্ধানী সাংবাদিক। আওয়ামী লিগের হার্ডকোর লোকজন যেমন জোকার হামিদ, সামিট, নসরুল হামিদ আর নাফিজ শরাফতের সাথে গাটছড়া বাধে কচুক্ষেতি। ছি ছি ছি রে ননী ছি।
সবচেয়ে হতাশার কথা কার্টুনিস্ট কিশোর এবং লেখক মুশতাক আহমেদ এক সময় এই কচুক্ষেতির সাথেই কাজ করতেন। সে নিজেই কিশোরকে নাফিজ সারাফতকে নিয়ে একটি ব্যঙ্গচিত্রের আইডিয়া দেয়।
সেই কার্টুনে লেখা ছিল: “আমি নাফিজ সারাফত, জানি ব্যাংক মারার ধারাপাত”, যা কিশোর আঁকেন।
এই কার্টুন প্রকাশিত হয়েছিল “I am Bangladeshi” নামের একটি ফেসবুক পেজে, যা কচুক্ষেতি নিজেই চালাতেন। কার্টুন দেখে নাফিজ সারাফত ক্ষুব্ধ হয়ে কিশোর ও মুশতাককে গ্রেফতার করান।
রিমান্ডে নির্যাতনের কারণে মুশতাক মৃত্যুবরণ করেন, এবং কিশোর গুরুতর আহত হন। মুশতাককে এতটা নির্যাতন করা হয়েছিল যে তিনি রিমান্ডে থাকা অবস্থায় নিজেই প্যান্টে হাগু করে ফেলেছিলেন। মুশতাকের মৃত্যুর জন্য কচুক্ষেতি ব্যক্তিগত ভাবে দায়ী।
আজ সেই নাফিজ সারাফতের একটি প্রকল্প আটকে আছে, আর সেই প্রকল্পে কচুক্ষেতি এখন তদবির করছে মন্ত্রণালয়ে ফাইয়াজ তাইয়েবের কাছে। শুধু নাফিজ শরাফতই না এই কনসোর্টিয়ামের সকলেই আওয়ামী লীগের হার্ডকোরের লোকজন।
হায় খোদা, বিন্দুমাত্র লজ্জা নাই। ফাইয়াজ তাইয়েব এই তদবিরে পাত্তা না দেয়ায় তার অনুগত সাংবাদিকদের লাগিয়ে দেয় ফাইয়াজ তাইয়েবের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করার জন্য। সে নিজেও ফাইয়াজ তাইয়েবের বিরুদ্ধে ফেইসবুকে লেখালেখি শুরু করে। এই তদবিরের পুরো ঘটনা প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফাইয়াজ তাইয়েব নিজেই আমাকে বলেছে। বুঝতেই পারছেন, এতো ডিটেইল টেকনিক্যাল বিষয় আমার জানার কথা না।
একসময় যে ব্যক্তি তার বিশ্বাস রাখা সহযোদ্ধাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিল, আজ তার জন্যই সে তদবির করছে। দুনিয়ার কী অদ্ভুত খেলা।
আল জাজিরার নাম ভাঙিয়ে দেশের মন্ত্রনালয়গুলোতে সে এক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। কোন কিছু ফাস করে দেয়ার ভয় দেখিয়ে সে নানা ধরনের তদবির আর বানিজ্যের সাথে যুক্ত হয়ে পড়েছে। কোথাও তার স্বার্থ লংঘিত হলেই জিঘাংসা নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে তার উপরে। তার সাথে আছে ওয়াকার, আওয়ামী লীগ, ইন্ডিয়ান স্বার্থ এবং ডিজিএফআইয়ের প্রশ্রয়। তার ফেইসবুক প্রোফাইলে দেখবেন আওয়ামী লীগার আর বামেদের সরব উপস্থিতি। এমনকি গোপালগঞ্জে অস্ত্রহাতে তান্ডব করা বাকশালিদের মানবাধিকার নাকি লংঘিত হয়েছে সেই অভিযোগও সে তুলেছে।
প্রশ্ন হচ্ছে: আল জাজিরা কি জানে, তাদের পরিচয় ভাঙ্গিয়ে এক ব্যক্তি বাংলাদেশে এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে?
বিশ্বাসঘাতকতা কেবল একবার হয় না; এটি শুরু হয় আত্মার দরজা খুলে দিয়ে, ধাপে ধাপে বিবেককে হত্যা করার মাধ্যমে। নৈতিক পতন, ব্যক্তিগত লোভ, ও ক্ষমতার কাছে আত্মসমর্পণ একজন মানুষকে পশুতে পরিণত করতে পারে।
যে ব্যক্তি একসময়কার সহযোদ্ধার মৃত্যুকে পাত্তা না দিয়ে তার শত্রুর জন্য তদবির করে, তার মানবিক অবস্থান ইতিহাসে যে জায়গায় থাকবে তা আমরা জানি—ঘৃণার অগ্নিকুণ্ডে।
