অবিলম্বে বহর গ্রাম—শিকপুর ফেরী পুনরায় চালু করা হউক

মো: আব্দুল মালিক

“গোলাপগঞ্জ—বিয়ানীবাজার ভায়া আমুড়া—বহরগ্রাম— শিকপুর রাস্তা” প্রবাসী অধ্যুষিত গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, বড়লেখা ও জুড়ি এই চার উপজেলা এবং গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার ও বড়লেখা এই তিন পৌরসভার জনসাধারণের বিভাগীয় শহর সিলেটে যাতায়াতের সহজ এবং সংক্ষিপ্ত রাস্তা। এই এলাকার মানুষের যাতায়াতের জন্য আরো দুটি রাস্তা হচ্ছে — (১) সিলেট — চারখাই— বিয়ানীবাজার রাস্তা (২) সিলেট — ঢাকাদক্ষিণ — বিয়ানীবাজার রাস্তা। উক্ত দুটি রাস্তা থেকে গোলাপগঞ্জ— বিয়ানীবাজার ভায়া আমুড়া— বহরগ্রাম—শিকপুর রাস্তাটির দূরত্ব ১৫ কিলোমিটার কম, রাস্তা প্রসস্থ ও সোজা। তাই এই ৪টি উপজেলা ও ৩টি পৌরসভার সর্বসাধারণ এবং সারাদেশ থেকে আসা পর্যটকরা এই রাস্তা ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করে থাকেন। উক্ত রাস্তায় ২০০৫ সালে প্রথম ফেরী সার্ভিস চালু হয়। প্রায় ১২ বৎসর ফেরীটি চলার পর ২০১৭ সালে বন্ধ হয়ে যায়, এখন পর্যন্ত আর চালু করা হয়নি। তখন ফেরীটি চালু করার জন্য অত্র এলাকার জনগণ গোলাপগঞ্জ — বিয়ানীবাজার নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য জনাব নুরুল ইসলাম নাহিদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেছেন, মানববন্ধন করেছেন, স্মারকলিপি দিয়েছেন, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মধ্যমে সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। কিন্তু এমপি সাহেবের ১টি ডিও লেটার না পাওয়ায় কতৃর্পক্ষ ফেরীটি আর চালু করেননি। দীর্ঘদিন থেকে ফেরী সার্ভিস বন্ধ থাকায় জনদূর্ভোগ লাঘবে অবশেষে এমপি সাহেব উক্ত ফেরীঘাটে ১টি ব্রীজ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ব্রীজ নির্মাণের কাজ শুরু হলে অত্র এলাকার মানুষের মধ্যে আশার আলো জেগে উঠে। কিন্তু হঠাৎ করে ১৪ এপ্রিল থেকে ব্রীজ নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে গেলে মানুষের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়। আবার কবে ব্রীজ নির্মাণের কাজ শুরু হবে তা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল শাখা সিলেটও বলতে পারেনা। তদুপরি ব্রীজ নির্মাণ কাজ শুরু হলেও ৩/৪ বছরের পূর্বে যান চলাচলের উপযোগী হবেনা। বর্তমানে অত্র এলাকার মানুষ ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকা দিয়ে নদী পারাপার করে থাকেন। ফলে অনেক সময় নৌকা ডুবির দূর্ঘটনা ঘটে। তাছাড়া মালামাল পরিবহণ, সংকটাপন্ন রোগী, প্রসূতি, বিদেশ যাত্রীদের মারাত্মক দূভোর্গ পোহাতে হয়।
অন্যদিকে ঘাটে ফেরী পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বর্তমানে ব্রীজ হওয়ার কারণে বাংলাদেশে বহু ফেরী পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। ফেরীর কর্মকর্তা — কর্মচারীরা বিনা কাজে বসে বসে বেতন নিচ্ছেন। তাই এখানে ফেরী সার্ভিস চালু করার জন্য সরকারের কোন সমস্যা নেই বরং আর্থ সামাজিক লাভ আছে। দীর্ঘদিন ফেরী সার্ভিস বন্ধ থাকায় ঘাটে পলি জমে গেছে, সেই পলিমাটি অপসারনে বড়জোর লাখ দুয়েক টাকা লাগবে। যা ফেরী নিলাম ডাকের মাধ্যমে উঠে আসবে। এমন কী সরকারের আরো আর্থিক লাভ হবে। অন্যদিকে জনদূর্ভোগ লাঘব হবে, অসুস্থতাজনিত অপমৃত্যু রোধ হবে, দ্রব্যমূল্য কমবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে,ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার হবে।
বর্তমানে ফেরীটি চালু করার জন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সরকার বা কর্তৃপক্ষের নিকট তদ্বির করার মতো জনপ্রতিনিধি যেমন— এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান বা মেয়র নেই। তাই আগামীদিনে যে দল সরকার গঠন করতে চান বা যারা এই নির্বাচনী এলাকার জনপ্রতিনিধি হতে চান তারা বহরগ্রাম — শিকপুর ফেরীটি অবিলম্বে চালু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষের সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন এই প্রত্যাশা ভূক্তভোগী জনসাধারণের। যে দল বা নেতা এই সমাস্যর সমাধান করে দিবেন অত্র এলাকার জনগণ সেই দল বা নেতাকে স্মরণে রাখবেন এই প্রত্যাশা অমূলক নয়। তাছাড়া জনকল্যান পূণ্যের কাজ। এলাকাবাসী এমন দরদী নেতার অপেক্ষায়, যিনি বহরগ্রাম— শিকপুর ফেরী সমস্যার সমাধান করে চার উপজেলা ও তিন পৌরসভার জনগণের কৃতজ্ঞতাভাজন হবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights