যশোর-১ (শার্শা) আসনে হাসান জহিরের আস্থা তৃণমূলে শক্ত অবস্থা
মীর ফারুক যশোর শার্শা প্রতিনিধিঃ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ষশোর-১ (শার্শা) জমে উঠেছে মনোনয়ন প্রাপ্তির লড়াই।শেষ সময় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বিরামহীন ছুটে চলছে কেন্দ্র থেকে গ্রামগঞ্জে ।মনোনয়ন প্রত্যাশীরা প্রতিটি ইউনিয়ন,ওয়ার্ড পর্যায়ে মিছিল মিটিং ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সংসদীয় আসনটি বরাবরই বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মাঝে লড়াই চলে। কিন্তু রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে পরিস্থিতি এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন।
ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের ক্ষমতা ছেড়ে পালানো আওয়ামী লীগ ছাত্রজনতার ওপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালানোয় মানবতাবিরোধী অপরাধে দলটির কার্যক্রম স্থগিত করেছে সরকার। ফলে এবার নির্বাচনে আওয়ামী অংশগ্রহণ করতে পারছে না এটা প্রায় নিশ্চিত। আর এই কারণে ভোটের রাজনীতি চিত্র পাল্টে গেছে। ফলে এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হবে বিএনপি ও জামায়াত ইসলামের মধ্যে।
দেশের সর্ববৃহৎ স্থল বন্দর বেনাপোল বন্দর ও ভারতীয় সীমান্তবর্তী হওয়ায় সংসদীয় আসনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন ও দুটি থানা নিয়ে গঠিত শার্শা উপজেলা।
শার্শা আসনের ১১টি ইউনিয়নে মোট ভোট কেন্দ্র ১০২টি। এ আসনে বর্তমানে ভোটার সংখ্যা ২৯৯২৮০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৫০৪৪০ জন এবং নারী ভোটার ১৪৮৮৮৩ জন।
আগের ১২টি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৭ বার, বিএনপি ৩বার এবং জামায়াতে ইসলামী ১বার ও জাতীয় পার্টি ১বার নির্বাচনে জয়লাভ করে।
সংসদীয় আসনটিতে বিএনপির সম্ভাব্য ৪ জন নেতা দলের টিকিট পেতে কেন্দ্রে জোর লবিং চালানোর পাশাপাশি সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে দিনরাত ছুটে চলছে গ্রামগঞ্জে সাধারণ মানুষের কাছে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।
দলীয় টিকিট নিশ্চিত করতে সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক সাবেক এমপি মফিকুল হাসান তৃপ্তি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষের কাছে ছুটছেন। গতবার তিনি শার্শা বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিল এবারও তিনি দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে আশাবাদী।
শার্শা উপজেলা বিএনপি সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হাসান জহির এবার দলীয় টিকিট পেতে জেলা ও কেন্দ্রে জোরালো ভাবে লবিং গ্রুপিং চালাচ্ছেন।আলোচিত ১/১১ পরবর্তী চরম দুঃসময়ে নেতৃত্বহীন সংকটময় মুহূর্তে শার্শা উপজেলা বিএনপির হাল ধরে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকারের সকল হামলা মামলা ও নির্যাতনকে উপেক্ষা করে একনিষ্ঠতার সাথে দল পরিচালনা করার কারণে তৃণমূলে তার অনেক শক্ত অবস্থান রয়েছে।
শার্শা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রবীন রাজনীতিবিদ দীর্ঘদিন বিএনপির নেতৃত্ব দানকারী আলহাজ্ব খায়রুজ্জামান মধু দলের টিকিট পেতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে।তিনি শেষ বয়সে এসে দাঁড়িয়েছেন এবার দল তাকে মূল্যায়ন করবে।
এছাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তরুণ নেতৃত্ব হিসাবে নুরুজ্জামান লিটন দলীয় মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রে লবিং চালাচ্ছেন।
তবে এ আসনে এবার জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী থাকায় ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে।জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদের সদস্য মাওলানা আজীজুর রহমান দলের নেতা কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন এবং নেতাকর্মীরা প্রতিদিন দল বেধে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ফরম পূরণ করে সদস্য সংগ্রহ করছেন ও নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।
শার্শা উপজেলা মৎস্যজীবী দলের আহবায়ক সোহরাব হোসেন বলেন ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগের নির্মম নির্যাতনের সময় আন্দোলনের ডাক দিলে শার্শা বিএনপি নেতারা ঢাকা কলকাতা চলে যেতো এবং আওয়ামী লীগের এমপি আফিল উদ্দিন এর সাথে করে আতাঁত করে এসি রুমে আয়েশি জীবন যাপন করেছে।তখন একমাত্র আবুল হাসান জহির হামলা মামলা নির্যাতন উপেক্ষা করে সব সময় দল ও নির্যাতিত নেতাকর্মিদের পাশে ছিলেন।হাসান জহিরের রক্তে রঞ্জিত শার্শার রাজপথ এবার তিনি বিএনপির মনোনয়ন পাবেন বলে আশাবাদী।
লক্ষণপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুস সালাম বলেন স্বৈরাচার শেখ হাসিনার ১৫ বছরের সমস্ত আন্দোলন সংগ্রাম ও নেতাকর্মীদের বিপদে আপদে সব সময় হাসান জহির ছাড়া কাউকে কাছে পায়নি।তিনি মনোনয়নের যোগ্য দাবিদার।
শার্শা উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহবায়ক আব্দুর রশিদ।বলেন ১/১১ পরবর্তী অভিভাবকহীন ও অস্তিত্ব সংকটে থাকা শার্শা উপজেলা বিএনপির কান্ডারী, স্বৈরাচার শেখ হাসিনার দীর্ঘ ১৫ বছরের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্মম নির্যাতনের শিকার, ৪৫টি নাশকতার মামলার আসামি ও কয়েকবার কারা বরণকারী আবুল হাসান জহিরকে।দলীয় মনোনয়ন দিলে শার্শার বিএনপির ঐক্যবদ্ধ থাকবে ও ত্যাগী নেতাকর্মীরা মূল্যায়িত হবে।
বিএনপির নিবেদিত কর্মি ভুট্রো মিয়া বলেন হাসান জহির হলো আমাদের মত গরীব মানুষের নেতা। অন্য নেতারা ঢাকায় বসবাস করে। শুধুমাত্র হাসান জহির সব সময় এলাকায় থাকেন এবং নেতাকর্মীদের বিপদ আপদে সবার আগে ছুটে আসেন। তিনি এমপি হলে সাধারণ মানুষ সুখে শান্তিতে থাকবে।
নির্বাচনী মাঠে বিএনপি ও জামায়াত ইসলামের প্রার্থী ছাড়া অন্য কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের দেখা যাচ্ছে না
মনোনয়ন লড়াই শেষে দলীয় টিকিট যা হাতেই উঠুক না কেনো সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবে বলে অঙ্গীকারবদ্ধ।
