গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে ইসরায়েল

প্রতিদিন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেক ভোটার বিশ্বাস করেন ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে। বুধবার প্রকাশিত কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটির জরিপে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। জরিপ অনুযায়ী, মার্কিন ভোটারের ১০ জনের ছয়জনই চান না ওয়াশিংটন ইসরায়েলকে আরও সামরিক সহায়তা পাঠাক। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এ খবর জানিয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, যারা মনে করেন গণহত্যা ঘটছে তাদের ৭৭ শতাংশই ডেমোক্র্যাট ভোটার। রিপাবলিকানের একটি বড় অংশ, প্রায় ৬৪ শতাংশ, মনে করেন ইসরায়েল গণহত্যা চালাচ্ছে না। যদিও ২০ শতাংশ রিপাবলিকান মনে করেন এটি গণহত্যা।

২০২৩ সালের নভেম্বরে কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয় জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের এ প্রশ্ন জিজ্ঞেস শুরু করেছে।

কুইনিপিয়াকের তথ্যানুযায়ী, ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং ইসরায়েলিদের প্রতি সহানুভূতিশীল মার্কিন ভোটার প্রায় সমানভাগে বিভক্ত। কারণ ৩৭ শতাংশ বলেছেন তারা ফিলিস্তিনিদের প্রতি বেশি সহানুভূতিশীল। আর ৩৬ শতাংশ বলেছেন তারা ইসরায়েলিদের প্রতি বেশি সহানুভূতিশীল। কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটির জনমত জরিপ বিশ্লেষক টিম মালয় প্রেস রিলিজে বলেছেন, ‘ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন বাড়ছে, আর ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা করার আগ্রহ তীব্রভাবে কমছে। আর ইসরায়েল যেভাবে গাজা অভিযানে এগোচ্ছে, তার একটি কঠোর মূল্যায়ন কুখ্যাত এক শব্দকে সামনে নিয়ে আসছে।’ এ জরিপে ১ হাজার ২২০ জন স্বপরিচিত নিবন্ধিত ভোটার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যার অভিযোগ এনেছে, যদিও দেশটির সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ইসরায়েলবিরোধী অবস্থানে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সব দেশ : ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান নিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে ১৪টি দেশ। গাজায় দুর্ভিক্ষের জন্য সরাসরি তেল আবিবকে দায়ী করে বিবৃতি দিয়েছে ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীনসহ অন্যরা। বৈঠকে উপত্যকার অনাহারের পরিস্থিতি নিয়ে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়েছেন ইসরায়েল ও আলজেরিয়ার প্রতিনিধি। কেবল যুক্তরাষ্ট্রই বরাবরের মতো পক্ষ নিয়েছে ইসরায়েলের। বুধবার গাজার দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি তুলে ধরতে অভুক্ত-অপুষ্টিতে ভোগা ফিলিস্তিনি শিশুদের ছবি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে তুলে ধরেন আলজেরিয়ার প্রতিনিধি। নিজের ১৩ বছর বয়সি ছেলের কাছে লেখা ইসরায়েলি আগ্রাসনে নিহত সাংবাদিক মরিয়ম আবু দাগ্গার আবেগঘন চিঠিও পড়ে শোনান তিনি। রয়টার্স ও আলজাজিরা

গাজা সিটিতে ইসরায়েলি ট্যাংক, গোলা বর্ষণে অনেকে হতাহত : গাজা সিটির ভিতরে ঢুকে পড়েছে ইসরায়েলি সেনারা। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে উত্তর প্রান্তের ইবাদ-আলরহমান এলাকা দিয়ে ট্যাংক বহর প্রবেশ করে। এ সময় গোলা বর্ষণে অনেকে আহত হন এবং অনেক পরিবারকে বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে হয়। এরপর গতকাল ট্যাংক বহর নতুন করে অগ্রাভিযান শুরু করেছে। সূত্র : রয়টার্স, আল জাজিরা।

খবরে বলা হয়, ইসরায়েলের ট্যাংক পূর্ব গাজার শেজাইয়া, জেইতুন ও সাবরা এলাকায় গোলাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন, নিহতদের মধ্যে চার বছরের এক শিশুও রয়েছে।

এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজা সিটি খালি করার নির্দেশ দিয়েছে। ফিলিস্তিনিদের উদ্দেশে তারা বলছে, শহর দখলের প্রস্তুতি চলছে, সবাইকে সরে যেতে হবে। পরিস্থিতি সম্পর্কে ৬০ বছর বয়সি স্থানীয় বাসিন্দা সাদ আবেদ বলেন, হঠাৎ খবর এলো এবাদ-আলরহমানে ট্যাংক ঢুকেছে। বিস্ফোরণের শব্দ বাড়তে থাকে, মানুষ পালিয়ে আমাদের এলাকায় চলে আসে। যুদ্ধবিরতি না হলে ট্যাংক আমাদের বাড়ির সামনে চলে আসবে। ইসরায়েলের দাবি, গাজা সিটিই হলো ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাসের শেষ ঘাঁটি। তাই নতুন অভিযান শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের ভিতরে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ তীব্র হচ্ছে। মঙ্গলবার দেশজুড়ে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে যুদ্ধ বন্ধ ও হামাসের হাতে বন্দিদের মুক্তির দাবি জানায়। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত সর্বশেষ ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে ইসরায়েল এখনো সাড়া দেয়নি, যদিও গত সপ্তাহে হামাস সম্মতি জানিয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights