যে প্রক্রিয়ায় এবার ভোট গ্রহণ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন উপলক্ষে চার দিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গতকাল রেজিস্ট্রারের অফিস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ৭ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকবে।

প্রত্যেক ভোটারের সময় ৮ মিনিট : আসন্ন ডাকসু নির্বাচনে মোট আটটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য মতে একজন ভোটার ভোট দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ ৮ মিনিট সময় পাবেন। বৃহস্পতিবার বিকালে নবাব নওয়াব আলী সিনেট ভবনের চিফ রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান চিফ রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক ড. মো. জসীম উদ্দিন।

তিনি বলেন, সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট দেওয়া যাবে। ভোট কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা অনুযায়ী পর্যাপ্ত বুথ স্থাপন করা হবে। একজন ভোটার ভোট দিতে সময় পাবেন আট মিনিট।

চিফ রিটার্নিং অফিসার বলেন, ভোট কেন্দ্র বাড়ানোর জন্য শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন এবং ছয়টি কেন্দ্র থেকে আটটি করা হয়েছে। আপাতত আমরা কেন্দ্র বাড়ানোর পরিকল্পনা করছি না। তিনি বলেন, স্ক্যানিং মেশিন দিয়ে ভোট গণনা করা হবে। মেশিনের সক্ষমতা অনেক। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভোটের রেজাল্ট প্রদান করার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে।

ডাকসুর রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী বলেন, ভোটের মাঠ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চেষ্টার কোনো কমতি নেই এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদেরকে সুন্দর একটি নির্বাচন উপহার দিতে চাই। কেউ আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইশতেহার ঘোষণা বাগছাসের : ডাকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ (বাগছাস)। ৮টি প্রস্তাবনায় মোট ৫০ দফা দাবি উপস্থাপন করেছে সংগঠনটি।

গতকাল বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে ইশতেহার ঘোষণা করেন বাগছাস সমর্থিত ‘বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আবদুল কাদের, জি এস প্রার্থী আবু বাকের মজুমদার ও এজিএস প্রার্থী আশরেফা খাতুন। মূল প্রস্তাবগুলো হলো- ডাকসুর নিয়মিত নির্বাচন নিশ্চিত, জাতীয় রাজনীতির মহড়া ও ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতির অবসান, জুলাই গণ অভ্যুত্থানসহ বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনকারীদের বিচারের আওতায় আনা ; গণতান্ত্রিক সংস্কার, স্বচ্ছ নিয়োগ নীতিমালা, ওয়ান স্টপ সলিউশন, পেপারলেস প্রশাসন, এলএমএস বিস্তার, ডিজিটাল ক্লাসরুম, ল্যাব আধুনিকায়ন, শিক্ষক মূল্যায়ন, নতুন স্টাডি স্পেস, ক্রেডিট ট্রান্সফার এবং বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাজুড়ে সিসিটিভি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা; ‘ওয়ান কার্ড অল সার্ভিস’ চালু, ওয়ান স্টুডেন্ট ওয়ান সিট নীতি বাস্তবায়ন, আবাসন সংকট নিরসনে ভর্তুকি ও অ্যাটাচমেন্ট, স্বাস্থ্যবিমা, মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ল্যাপটপে সুদবিহীন ঋণ; দাড়ি-টুপি, বোরকা-হিজাবসহ পোশাক ও আঞ্চলিকতার ভিত্তিতে মোরাল পুলিশিং রোধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং ভিন্ন ধর্ম, জাতিসত্তা ও মাদরাসা ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্য বন্ধ; স্টারলিংকের মাধ্যমে উচ্চগতি ইন্টারনেট, এডুরোমের মাধ্যমে ফ্রি ওয়াইফাই, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চক্রাকার বাস, ওয়ান কার্ড অল সার্ভিস বাস্তবায়ন, টিএসসি ও ডাকসু ক্যাফেটেরিয়ায় ভর্তুকিযুক্ত খাবার এবং বিভিন্ন ভবনে নতুন ক্যান্টিন স্থাপন; সেন্ট্রাল ও সায়েন্স লাইব্রেরি আধুনিকায়ন, ২৪ ঘণ্টা লাইব্রেরি সেবা, ই-লাইব্রেরি, এফবিএস ডেটা সেন্টার চালু, ক্যারিয়ার ক্লাব, আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণ ও উদ্যোক্তা হাব গঠন; ঢাবির নিজস্ব মিউজিয়াম ও কালচারাল সেন্টার, আধুনিক জিমনেসিয়াম ও গেমসরুম, সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং হলভিত্তিক খেলার মাঠ সংস্কার; নারী হলগুলোতে খেলাধুলার সুযোগ বৃদ্ধি, ২৪ ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, মেয়েদের নামাজের স্থান প্রসার, অনাবাসিক নারীদের হলে প্রবেশাধিকার এবং জনপরিসর নারীবান্ধব করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights