শার্শা গ্রাম গঞ্জে ছুটছে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নির্বাচনী আমেজ
মীর ফারুক যশোর শার্শা প্রতিনিধিঃ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ষশোর-১ (শার্শা) জমে উঠেছে মনোনয়ন প্রাপ্তির লড়াই।শেষ সময় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা বিরামহীন ছুটে চলছে গ্রামগঞ্জে সাধারন মানুষের কাছে।দিচ্ছে নানা প্রতিশ্রুতি।প্রতিদিন বিভিন্ন ইউনিয়ন,ওয়ার্ড পর্যায়ে করছেন মিছিল মিটিং ও লিফলেট বিতরন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চালাচ্ছেন নানা প্রচার-প্রচারণা। শার্শা। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের গণসংযোগ কার্যত নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে।ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাচ্ছেন দলীয় প্রতিকের পক্ষে।
যশোর ৮৫/ ( শার্শা)সংসদীয় আসনটি বরাবরই বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মাঝে লড়াই চলে। কিন্তু ৫ ই আগষ্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের ক্ষমতা ছেড়ে পালানো আওয়ামী লীগ ছাত্রজনতার ওপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালানোয় মানবতাবিরোধী অপরাধে দলটির কার্যক্রম স্থগিত করেছে সরকার। ফলে এবার নির্বাচনে আওয়ামী অংশগ্রহণ করতে পারছে না এটা প্রায় নিশ্চিত। আর এই কারণে ভোটের রাজনীতি চিত্র পাল্টে গেছে। ফলে এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হবে বিএনপি ও জামায়াত ইসলামের মধ্যে।
দেশের সর্ববৃহৎ স্থল বন্দর বেনাপোল বন্দর ও ভারতীয় সীমান্তবর্তী হওয়ায় সংসদীয় আসনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন ও দুটি থানা নিয়ে গঠিত শার্শা উপজেলা।
শার্শা আসনের ১১টি ইউনিয়নে মোট ভোট কেন্দ্র ১০২টি। এ আসনে বর্তমানে ভোটার সংখ্যা ২৯৯২৮০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৫০৪৪০ জন এবং নারী ভোটার ১৪৮৮৮৩ জন।
আগের ১২টি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৭ বার, বিএনপি ৩বার এবং জামায়াতে ইসলামী ১বার ও জাতীয় পার্টি ১বার নির্বাচনে জয়লাভ করে।
সংসদীয় আসনটিতে বিএনপির সম্ভাব্য ৪ জন নেতা দলের টিকিট পেতে কেন্দ্রে জোর লবিং চালাচ্ছেন।সম্ভাব্য প্রার্থীরা লবিং চালানোর পাশাপাশি নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে দিনরাত ছুটে চলছে গ্রামগঞ্জে সাধারণ মানুষের কাছে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।
দলীয় টিকিট নিশ্চিত করতে বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক সাবেক এমপি মফিকুল হাসান তৃপ্তি গতবার তিনি শার্শা বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিল এবারও তিনি দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে আশাবাদী।প্রতিদিন তিনি বিএনপি বার্তা নিয়ে ছুটছেন মানুষের কাছে।
শার্শা উপজেলা বিএনপি সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হাসান জহির এবার দলীয় টিকিট পেতে জেলা ও কেন্দ্রে জোরালো ভাবে লবিং গ্রুপিং চালাচ্ছেন।আলোচিত ১/১১ পরবর্তী চরম দুঃসময়ে নেতৃত্বহীন সংকটময় মুহূর্তে শার্শা উপজেলা বিএনপির হাল ধরে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকারের সকল হামলা মামলা ও নির্যাতনকে উপেক্ষা করে একনিষ্ঠতার সাথে দল পরিচালনা করার কারণে তৃণমূলে তার অনেক শক্ত অবস্থান রয়েছে। তিনি আশাবাদী এবার দল তাকে মুল্যায়ন করবে।
শার্শা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রবীন রাজনীতিবিদ দীর্ঘদিন বিএনপির নেতৃত্ব দানকারী আলহাজ্ব খায়রুজ্জামান মধু দলের টিকিট পেতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে।শেষ বয়সে এসে দাঁড়িয়েছেন তিনি এবার দল তাকে মূল্যায়ন করবে বলে অনেক আশাবাদী।
এছাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তরুণ নেতৃত্ব হিসাবে নুরুজ্জামান লিটন দলীয় মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রে লবিং চালাচ্ছেন।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তরুন নেতৃত্বে প্রতি আস্থাশীল এই কারনে তিনি মনোনয়ন পাবেন বলে আশাবাদী।
তবে এ আসনে এবার জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী থাকায় ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে।জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদের সদস্য মাওলানা আজীজুর রহমান দলের নেতা কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন এবং নেতাকর্মীরা প্রতিদিন দল বেধে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ফরম পূরণ করে সদস্য সংগ্রহ করছেন ও নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।
নির্বাচনী মাঠে বিএনপি ও জামায়াত ইসলামের প্রার্থী ছাড়া অন্য কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের দেখা যাচ্ছে না
বৃদ্ধ জামাল উদ্দিন বলেন বহু বছর পর এবার ভোট দিবো যোগ্য ব্যক্তিকেই দিবো।যারা দেশের শান্তি শৃঙ্খলা উন্নয়নে কাজ করব।
তরুন ভোটার আল আমিন বলেন ভোটার হওয়া পর কখনো ভোট দিতে পারি নাই।এবার অংশগ্রহণ মুলুক ভোট হবে।আমি জীবনে প্রথম ভোট দিবো।আমরা চাই ভোটের পর দেশ হবে সস্ত্রাস চাঁদাবাজ ও দূর্নীতি সোনার বাংলাদেশ।
এই দিকে দীর্ঘদিন পর দেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে সর্বত্র নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে।ভোট প্রদানে অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছেন ভোটের দিনের জন্য।
