পুরনো গবেষণায় মিলল নতুন অ্যান্টিবায়োটিকের সম্ভাবনা

অনলাইন ডেস্ক

বিশ্বজুড়ে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণুর বিস্তার যখন ভয়াবহ আকার নিচ্ছে, তখন বিজ্ঞানীরা এক আশার খবর দিয়েছেন। তারা এমন এক শক্তিশালী নতুন অ্যান্টিবায়োটিক যৌগ আবিষ্কার করেছেন, যা এতদিন চোখের সামনেই ছিল। কিন্তু কারও নজরে আসেনি।

সম্প্রতি জার্নাল অব দ্য আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটিতে প্রকাশিত এক গবেষণায় জানানো হয়েছে, মোনাশ-ওয়ারউইক অ্যালায়েন্সের ‘কমব্যাটিং এমার্জিং সুপারবাগ থ্রেটস ইনিশিয়েটিভ’ দলের গবেষকেরা ‘প্রী-মিথিলেনোমাইসিন সি ল্যাকটোন’ নামের এক যৌগ শনাক্ত করেছেন। এটি আগে থেকেই পরিচিত এক ব্যাকটেরিয়া প্রজাতির মধ্যেই লুকিয়ে ছিল।

গবেষকেরা জানান, এই যৌগটি মূলত পরিচিত অ্যান্টিবায়োটিক ‘মিথিলেনোমাইসিন এ’ তৈরির মধ্যবর্তী ধাপের একটি অংশ। কিন্তু যেহেতু এটি চূড়ান্ত পণ্য নয়, তাই পূর্ববর্তী গবেষণায় বিষয়টি ধরা পড়েনি।

ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গ্রেগ চ্যালিস বলেন, মিথিলেনোমাইসিন এ প্রায় ৫০ বছর আগে আবিষ্কৃত হয়েছিল। কিন্তু এর উৎপাদন প্রক্রিয়ার মধ্যবর্তী যৌগগুলোর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল কার্যকারিতা কেউ পরীক্ষা করেনি। আমরা সেই প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করে দুটি নতুন যৌগ পাই, যেগুলো মিথিলেনোমাইসিন এ-এর চেয়েও বেশি কার্যকর।

সহগবেষক ড. লোনা আলখালাফ জানান, এই যৌগটি তৈরি করে যে ব্যাকটেরিয়া—স্ট্রেপ্টোমাইসিস কয়েলিকালার —তা ১৯৫০ সাল থেকেই বিজ্ঞানীদের কাছে পরিচিত একটি মডেল জীব। এত পরিচিত ব্যাকটেরিয়ায় নতুন অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া সত্যিই বিস্ময়কর।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছে, নতুন অ্যান্টিবায়োটিকের অভাব এখন বৈশ্বিক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। সহজলভ্য অ্যান্টিবায়োটিকগুলো আগেই আবিষ্কৃত হয়ে গেছে। আর বাণিজ্যিক অনাগ্রহের কারণে নতুন ওষুধ উন্নয়নে বিনিয়োগ কমে গেছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, প্রী-মিথিলেনোমাইসিন সি ল্যাকটোন-এর এই আবিষ্কার শুধু নতুন অ্যান্টিবায়োটিক তৈরির দিগন্তই খুলে দিচ্ছে না, বরং পুরনো গবেষণাগুলো পুনর্বিবেচনার গুরুত্বও তুলে ধরছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights