রংপুরে ‘ক্লান্ত হিমালয়’ গৃধিনী শকুন উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় বিশালাকৃতির ১০ কেজি ওজনের একটি হিমালয় গৃধিনী শকুন উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার বড়বালা ইউনিয়নের তরফবাহাদি গ্রামের একটি বাড়ি থেকে শকুনটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা ও খাবার পেয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠেছে শকুনটি।

সামাজিক বন বিভাগে হস্তান্তরের আগে সোমবার দুপুরে হিমালয় গৃধিনী শকুনটিকে আনা হয় কারমাইকেল কলেজ ক্যাম্পাসে। সেখানে শিক্ষার্থীদের সামনে শকুনটি প্রদর্শনের মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলা হয়। এ সময় শত শত দর্শনার্থী শকুনটি দেখতে ভিড় জমান।

বন্য প্রাণী উদ্ধারকর্মীরা জানান, শীত মৌসুমে হিমালয়ে থাকা গৃধিনী শকুন উষ্ণতা ও খাবারের খোঁজে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে চলে আসে। ক্ষুধার্ত অবস্থায় দীর্ঘ প্রায় ৭০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে গিয়ে দুর্বল ও ক্লান্ত হয়ে পড়ে তারা। উড়তে উড়তে একসময় লোকালয়ের গাছে, বাড়ির আঙিনা কিংবা ঝোপঝাড়ে পড়ে যায়। বিশালাকৃতির হওয়ায় স্থানীয় শিশু-কিশোররা শকুনগুলোর ওপর অহেতুক ঢিল ছোড়ে, লাঠি পেটা করে মেরে ফেলার চেষ্টা করে।

অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী মাইদুল ইসলাম বলেন, শকুন পরিবেশের বন্ধু। এই বন্ধু পাখিকে রক্ষায় আমাদের সকলকে কাজ করতে হবে। বেশি বেশি করে পাখিদের সঙ্গে পরিচয় ঘটাতে পারলে মানুষের মাঝে পাখি প্রেম জন্মাবে। এতে করে কেউ আর পাখি হত্যা করবে না। শীতে আমাদের জেলায় নানা ধরনের বিদেশি পাখি আসে। সেই পাখিগুলোকেও আমাদের রক্ষা করতে হবে।

সাপ ও বন্য প্রাণী উদ্ধার কর্মী লিজেন আহমেদ প্রান্ত বলেন, গত বছর প্রায় ২০টির মতো হিমালয় গৃধিনী শকুন উত্তরাঞ্চলে উদ্ধার করা হয়েছে। এ মৌসুমে প্রথম মিঠাপুকুরে একটি শকুন উদ্ধার করা হয়েছে। আমরা শোনা মাত্রই ঘটনাস্থলে গিয়ে শকুনটি উদ্ধার করে নিয়ে আসি। দীর্ঘপথ অতিক্রম করায় শকুনটি খাবারের অভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিল। তাকে খাবার ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ায় মোটামুটি সুস্থ হয়েছে। আমরা সামাজিক বন বিভাগকে এটি হস্তান্তর করেছি।

সামাজিক বন বিভাগের বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা স্মৃতি সিংহ রায় বলেন, প্রতি বছর উত্তরাঞ্চল থেকে উদ্ধার হওয়া হিমালয় গৃধিনী শকুনগুলোকে দিনাজপুর বিরলের শকুন পরিচর্যা কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেখানে শকুনগুলো সুস্থ হয়ে উঠলে তা প্রকৃতিতে উন্মুক্ত করা হয়। আমাদের আহ্বান থাকবে হিমালয় গৃধিনী শকুনসহ পরিযায়ী কোনো পাখি অসুস্থ অবস্থায় লোকালয়ে দেখা গেলে তাদের উদ্ধারে সামাজিক বন বিভাগকে সহযোগিতা করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights