জনসমুদ্রে বিদায় বিপ্লবী হাদি

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে গতকাল বিকালে দাফন করা হয়েছে গণ অভ্যুত্থানের সম্মুখযোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে। কবরে রোপণ করা হয়েছে রক্তজবা ফুলের গাছ। এর আগে দুপুরে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় হাদির জানাজা হয়। এ সময় পুরো সংসদ এলাকা ও আশপাশের সড়ক জনসমুদ্রে পরিণত হয়। দক্ষিণ প্লাজায় জায়গা না হওয়ায় বিপুলসংখ্যক মানুষ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে দাঁড়িয়ে জানাজার নামাজ আদায় করে। অশ্রুসজল চোখে তারা শেষ বিদায় জানায় ওসমান হাদিকে।

ঢাকার বাইরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গতকাল হাদির গায়েবানা জানাজা হয়েছে। গতকাল দুপুরে ওসমান হাদির লাশবাহী গাড়ি সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর শুভাকাক্সক্ষীরা। এ সময় ‘তুমি কে আমি কে, হাদি হাদি’ স্লোগানে প্রকম্পিত হয় সংসদ এলাকা। হাদি হত্যায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি ওঠে। বেলা সোয়া দুইটার দিকে ওসমান হাদির বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিকের ইমামতিতে জানাজার নামাজ শুরু হয়। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, সরকারের অন্যান্য উপদেষ্টা ও কর্মকর্তা, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ছাড়াও দলমতনির্বিশেষে মানুষ জানাজায় অংশ নেয়। অনেকে আসে ঢাকার বাইরে থেকে।

জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘শহীদ শরিফ ওসমান হাদির বিদায় নয়, বরং তাঁর স্বপ্ন ও আদর্শ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করতেই মানুষ আজ একত্র হয়েছে। প্রিয় ওসমান হাদি, তোমাকে আমরা বিদায় দিতে আসিনি। তুমি আমাদের বুকের ভিতরে আছ। বাংলাদেশ যত দিন থাকবে, তত দিন তুমি সব বাংলাদেশির বুকের মধ্যে থাকবে। আজ আমরা তোমার কাছে ওয়াদা করতে এসেছি-আমরা দুনিয়ার সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াব, কারও কাছে মাথা নত করব না। যে মন্ত্র তুমি দিয়ে গেছ, আমরা সেটা পূরণ করে যাব। হাদি তুমি হারিয়ে যাবে না, এই জাতি তোমাকে ভুলতে পারবে না।’

শহীদ ওসমান হাদির বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘হাদির সন্তানের মাত্র আট মাস বয়স। শিশুটি আর কোনো দিন তার বাবাকে দেখবে না। আমার মা জ্ঞান হারিয়ে ফেলছে। ভাইবোনেরা পাগলপ্রায়। ছয় ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিল শরিফ ওসমান হাদি। আজ তার লাশ আমার কাঁধে বহন করতে হচ্ছে। আট দিন হয়ে গেল, প্রকাশ্য দিবালোকে রাজধানীতে জুমার নামাজের পর খুনি গুলি করে যদি পার পেয়ে যায়, এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু নেই। যদি বর্ডার পেরিয়ে যায়, পাঁচ-সাত ঘণ্টায় তারা কীভাবে গেল সেই প্রশ্ন জাতির কাছে রেখে গেলাম। সাত-আট দিন হয়ে গেল, আমরা শহীদ ওসমান হাদির বিষয়ে কিছু করতে পারলাম না। এই দুঃখে কলিজা ছিঁড়ে যাচ্ছে। আমার ভাই শহীদ হয়েছে। তার হত্যার বিচার যেন প্রকাশ্যে এই বাংলার জমিনে আমরা দেখতে পাই।’

ইনকিলাব মঞ্চ ছাড়া কারও কোনো প্রপাগান্ডায় কোনো ধরনের সহিংসতার পথ বেছে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘আমরা ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে সময়মতো জানাব কখন কী ব্যবস্থা করতে হবে।’ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বখস চৌধুরীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাদি হত্যা তদন্তে গত এক সপ্তাহে নেওয়া পদক্ষেপ জনগণকে জানানোর আলটিমেটাম দিয়ে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘ওসমান হাদিকে ১৬৮ ঘণ্টা আগে গুলি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত খুনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে? এখানে একটা খুনি চক্র কাজ করছে। এই পুরো চক্রকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমার ভাইয়ের রক্তের বদলা নেওয়ার জন্য আজকে আমরা এই জানাজায় দাঁড়িয়েছি। ওসমান হাদির পরিবারকে বলা হয়েছে, রাষ্ট্র থেকে কোনো সহযোগিতা লাগলে জানাতে। আমরা বলতে চাই, এই রাষ্ট্রকে রক্ষা করতে শরিফ ওসমান হাদির সব ভাইবোনেরা রক্ত দিতে প্রস্তুত আছে। তবু এই খুনিদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করতেই হবে। হয় বাংলাদেশে ইনসাফ কায়েম হবে, নয়তো বাংলাদেশের জন্য রক্ত দিতে আমরা সবাই প্রস্তুত রয়েছি।’

জানাজার আগে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির জীবনী পড়ে শোনান ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।

জানাজা শেষে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা হাদির এই বর্বর হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই ও দ্রুততম সময়ে খুনিদের গ্রেপ্তার দাবি করছি। তবে যারা অস্থিতিশীলতা তৈরি করে দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে, আমরা তাদের সমুচিত জবাব দেব। সবাইকে এ ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে।’ শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পেছনে বড় ধরনের ষড়যন্ত্র আছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সকাল থেকেই আসতে শুরু করে মানুষ : শহীদ ওসমান হাদির লাশ আসবে জাতীয় সংসদে। বেলা আড়াইটায় হবে জানাজা। এজন্য সকাল থেকেই সংসদ অভিমুখী মানুষের ঢল নামে। দুপুর ১২টার মধ্যেই দক্ষিণ প্লাজার মাঠ লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়, দক্ষিণ প্লাজায় জায়গা না পেলে পূর্ব দিকের মাঠ ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অবস্থান নেওয়ার জন্য। ফার্মগেট থেকে আসাদ গেট পর্যন্ত সড়কে তিলধারণের জায়গা ছিল না। সংসদ ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় জানাজাস্থল বাঁশের বেরিকেড দিয়ে ঘিরে রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত সেই বাধা আর থাকেনি। জানাজা শেষে কিছু উৎসুক জনতা বেরিকেড ভেঙে লাশবাহী গাড়ির কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করে। পুরো সংসদ ভবন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে মানুষ। কিছু মানুষ সংসদের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করে।

হাদির জানাজা ও দাফনে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা : নিরাপত্তার স্বার্থে শরিফ ওসমান হাদির জানাজায় অংশ নিতে আসা সবাইকে তল্লাশি করে জানাজাস্থলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। সব গেটে আর্চওয়ে বসানোর পাশাপাশি মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে শরীর তল্লাশি করা হয় সবার। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও যাঁরা ব্যাগ নিয়ে জানাজায় আসেন, তাঁদের ব্যাগ গেটের কাছে রেখে যেতে হয়। জানাজা এবং দাফন উপলক্ষে সংসদ ভবন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পোশাকে ও সাদাপোশাকে তাদের সরব উপস্থিতি ছিল। এসব এলাকার নিরাপত্তায় সেনাবাহিনীর পাশাপাশি বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়। ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের টহল ও নজরদারি। নজরদারি ছিল ড্রোনের মাধ্যমেও। ফলে কোনো ধরনের অঘটন ছাড়াই বিপ্লবী হাদির জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়।

ফয়সালের স্ত্রী বান্ধবী-শ্যালক ফের রিমান্ডে : ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল দাউদের স্ত্রী, শ্যালক ও বান্ধবীকে দ্বিতীয় দফায় চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম মো. সিদ্দিক আজাদের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন প্রধান আসামি ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু ও বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা। একই সঙ্গে রিমান্ড শেষে রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। এর আগে সোমবার তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছিল।

১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণা শেষে ফেরার পথে শরিফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে মোটরসাইকেলে আসা দুই দুষ্কৃতকারী। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিঙ্গাপুরে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় প্রথমে হত্যাচেষ্টা মামলা হলেও হাদির মৃত্যুর পর এটি এখন নিয়মিত হত্যা মামলা হিসেবে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হবে বলে জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, হাদি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে তার কড়া অবস্থানের কারণে তিনি একটি অশুভ গোষ্ঠীর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন। তদন্ত কর্মকর্তারা মনে করছেন, আসন্ন নির্বাচন নস্যাৎ করা এবং প্রার্থীদের মনে ভীতি সৃষ্টির সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এ হত্যাকাণ্ডে প্রধান আসামি ফয়সালের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। রিমান্ডে থাকা আসামিদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কুশীলবদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করছে ডিবি পুলিশ।

এর আগে হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে মামলা করেন। তবে আদালত সূত্রে জানা গেছে, হাদির মৃত্যুর পর বর্তমানে এটি হত্যা মামলা হিসেবে দণ্ডবিধির অনেক ধারা যুক্ত হয়েছে।

পাকিস্তান হাইকমিশনের শোক : ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছে ঢাকাস্থ পাকিস্তান দূতাবাস। শুক্রবার দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ‘শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে পাকিস্তান হাইকমিশন গভীর শোক প্রকাশ করছে। এই শোকাবহ মুহূর্তে আমরা তাঁর পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং শুভাকাক্সক্ষীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি। মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ স্থান দান করুন এবং তার প্রিয়জনদের এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি দিন।’

বিভিন্ন স্থানে গায়েবানা জানাজা : দেশের বিভিন্ন স্থানে গতকাল ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির গায়েবানা জানাজা, দোয়া মাহফিল, কফিনমিছিল, আলোচনা সভা, বিশেষ মোনাজাত, বিক্ষোভ মিছিল, রাষ্ট্রীয় শোকসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সভায় বক্তারা হত্যাকারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করে বিচারের আলটিমেটাম দেন। নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

চট্টগ্রাম : দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে অ্যান্টি ফ্যাসিস্ট স্কোয়াডের উদ্যোগে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন জুলাইয়ের শহীদ মাহবুবুল হকের ছোট ভাই মঞ্জু মাহিম। অংশগ্রহণ করেন জুলাই গণ অভ্যুত্থানের যোদ্ধা, ছাত্র-জনতাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী। আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যান্টি ফ্যাসিস্ট স্কোয়াডের সংগঠক রিয়াজুল আনোয়ার সিন্টু, আযাদ দোভাষ, সরওয়ার কামাল, টিপু সুলতান, এমদাদুল হক, নাঈমুর রহমান তানজিদ, সৈয়দ এহসানুল হক, নিজামুদ্দিন, সাকিব প্রমুখ।

সিলেট : জোহরের নামাজের পর ‘জুলাই যোদ্ধা সংসদ’ সিলেট জেলার উদ্যোগে মহানগরের কোর্ট পয়েন্টসংলগ্ন কালেক্টরেট মসজিদ প্রাঙ্গণে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় দলমতনির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলম, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, বিএনপি নেতা সালেহ আহমদ খছরু, সিলেট রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সেক্রেটারি মাহবুবুল হক চৌধুরী, জুলাই যোদ্ধা সংসদ সিলেট জেলা আহ্বায়ক লিটন আহমদ, সদস্যসচিব নোমান আহমদ প্রমুখ। এ ছাড়া আসরের নামাজের পর মহানগরের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

রংপুর : সন্ধ্যায় মহানগরের জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের পাদদেশে রংপুরের সর্বস্তরের বিপ্লবী ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে এই বিপ্লবী নেতার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে পুলিশ লাইনস মোড়, কাচারী বাজার প্রদক্ষিণ শেষে শহীদ ওসমান হাদি (ডিসির মোড়) চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। জানাজা ও বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাসহ রংপুরের হাজারো বিপ্লবী ছাত্র-জনতা।

খুলনা : সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি ভবন ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক কার্যালয় বন্ধ রাখা হয়। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়। এ ছাড়া শোক কর্মসূচির অংশ হিসেবে হাদির রুহের মাগফিরাত কামনায় মসজিদে দোয়া পরিচালনা করা হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেয়।

রাজশাহী : ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হয়েছে রাজশাহীতে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা টানানো হয় অর্ধনমিতভাবে। এ ছাড়া বিকালে গায়েবানা জানাজা হয়েছে রাজশাহী কলেজ মাঠে।

চাঁদপুর : দুপুরে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত শরিফ ওসমান হাদির জানাজা প্রজেক্টরের মাধ্যমে সরাসরি চাঁদপুরে উপস্থিত মুসল্লিদের জন্য সম্প্রচার করা হয়। এতে স্থানীয় জনগণ ঢাকার জানাজা কর্মসূচিতে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। গায়েবানা নামাজের আগে দেশ রক্ষায় ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শপথবাক্য পাঠ করান নিয়াজ মোরশেদ। শপথপাঠ শেষে বক্তারা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

বগুড়া : বেলা আড়াইটায় শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে ইনকিলাব মঞ্চ বগুড়ার আয়োজনে গায়েবানা জানাজায় বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, জেএসডিসহ বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। ইনকিলাব মঞ্চ বগুড়ার আহ্বায়ক মুয়াজ বিন মোস্তাফিজের পরিচালনায় গায়েবানা জানাজার আগে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপি সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, শহর জামায়াতের আমির আবিদুর রহমান সোহেল প্রমুখ।

নারায়ণগঞ্জ : শহরের চাষাঢ়া বাগে জান্নাত জামে মসজিদের সামনে জানাজা নামাজের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেন এনসিপি, বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও সর্বস্তরের মানুষ।

কুষ্টিয়া : দুপুরে কুষ্টিয়া পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করে।

রাজবাড়ী : সন্ধ্যায় জামায়াতে ইসলামী রাজবাড়ী সদর ও পৌর শাখার উদ্যোগে আজাদী ময়দানে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। রাজবাড়ী পৌর জামায়াতের আমির ডা. মো. হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় রাজবাড়ী-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী, জেলা আমির অ্যাডভোকেট মো. নূরুল ইসলাম প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।

ঝালকাঠি : গতকাল বাদ জোহর ঝালকাঠি শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে হাদির রুহের মাগফিরাত কামনায় গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজায় শহর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নেন।

পিরোজপুর : পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ওসমান হাদির মৃত্যুতে ঘোষিত জাতীয় শোক দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন না করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় ছাত্র-জনতাসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপপরিচালক (ফিন্যান্স) আরাফাত হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ভুলবশত নিরাপত্তাকর্মীরা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেননি।’

শোকে স্তব্ধ হাদির গ্রাম : ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির গ্রামের বাড়িসহ শোকে স্তব্ধ দক্ষিণের জেলা ঝালকাঠি। হাদি স্মরণে অর্ধবেলা সব দোকানপাট বন্ধ রেখেছেন নলছটি উপজেলাবাসী। জাতীয় শোক ঘোষণার অংশ হিসাবে দেশজুড়ে সকাল থেকে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। সন্ত্রাসীদের গুলিতে মৃত্যুবরণ করায় তাঁর নিজ জন্মভূমিসহ সর্বত্র চলছে হাদির আলোচনা। থামছে না হাদির পরিবার ও এলাকাবাসীর কান্না। তাঁর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঝালকাঠির এনএস কামিল মাদ্রাসায়ও চলছে শোকের মাতম। দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যারকারীদের গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ বিচার দাবি করেন তারা। হাদিশূন্য তাঁর বসতভিটায় ভিড় করছেন চেনা-অচেনা বহু মানুষ। শেষবারের মতো দেখাও হলো বলে আফসোস সবার।

শরিফ ওসমান হাদির স্মরণে গতকাল দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত উপজেলা ব্যবসায়ীর উদ্যোগে সব দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়। এ বিষয়ে নলছিটি উপজেলা ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যোগ সকালে শহরে মাইকিং করা হয়। নলছিটি পৌর বস্ত্র ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি নেওয়াজ হোসাইন জানান, নলছিটি উপজেলাবাসীর পক্ষে সব ব্যবসায়ী শরিফ ওসমান হাদিকে সম্মানে এ উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights