বিশ্বে আকরিক লোহার দাম বেড়েছে

অনলাইন ডেস্ক
চীনের কারখানাগুলো ইস্পাতের মজুদ বাড়ানোর প্রত্যাশায় ধাতব পণ্যটির উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল আকরিক লোহার দাম বেড়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) চীনে চন্দ্র নববর্ষের আগে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।

চীনের দালিয়ান কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (ডিসিই) সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া আকরিক লোহার চুক্তির দাম দিনের লেনদেন শেষে শূন্য দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি ৭৮০ ইউয়ানে দাঁড়িয়েছে। সপ্তাহজুড়ে দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ। যা গত অক্টোবরের শেষের পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক উত্থান।

অন্যদিকে সিঙ্গাপুর এক্সচেঞ্জে জানুয়ারি ডেলিভারির মানদণ্ড আকরিক লোহার দাম শূন্য দশমিক ১৭ শতাংশ কমে টনপ্রতি ১০৪ দশমিক ৭ ডলারে লেনদেন হয়। তবে সাপ্তাহিক হিসাবে এ বাজারেও দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়ার পথে রয়েছে। দিনের একপর্যায়ে দাম ১০৫ ডলারে পৌঁছায়, যা ২৭ নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ।

বিশ্লেষকদের মতে, ফেব্রুয়ারি ১৫ থেকে ২৩ তারিখের চন্দ্র নববর্ষের ছুটিকে সামনে রেখে চীনের ইস্পাত কারখানাগুলো আগামী সপ্তাহগুলোতে স্পট বাজার থেকে আকরিক লোহা কেনা বাড়াতে পারে। এতে বাজারে দামের পক্ষে সহায়ক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

এছাড়া মাঝারি মানের আকরিক লোহা সরবরাহে ঘাটতিও দামকে সমর্থন দিচ্ছে। দাম নিয়ে বিরোধের জেরে জেরে খনি কোম্পানি বিএইচপির দুটি গ্রেডের আকরিক আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।

তবে স্বল্পমেয়াদে আকরিক লোহা ব্যবহার কমে যাওয়ায় দাম কিছুটা কমে এসেছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মাইস্টিলের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত দৈনিক গড় হট মেটাল উৎপাদন সপ্তাহের ব্যবধানে ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ২২ দশমিক ৬ লাখ টনে নেমেছে, যা জানুয়ারির শেষের পর সর্বনিম্ন।

শাংহাই ফিউচার্স এক্সচেঞ্জে ইস্পাতপণ্যের দামে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। রিবারের দাম অপরিবর্তিত ছিল, হট-রোল্ড কয়েল শূন্য দশমিক ২৪ শতাংশ কমেছে, ওয়্যার রড শূন্য দশমিক ৮৬ শতাংশ বেড়েছে এবং স্টেইনলেস স্টিলের দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

উল্লেখ্য, চীনে সাধারণত চন্দ্র নববর্ষের ছুটির সময় পরিবহন ও কারিগরী কার্যক্রম ধীর হয়ে পড়ে। এ কারণে ছুটির আগে উৎপাদনের চাহিদা মেটাতে ইস্পাত প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো আকরিক লোহার আগাম সরবরাহ চুক্তি করে রাখে। তবে বাজারে এরই মধ্যে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ার তথ্য আকরিক লোহার দামের ঊর্ধ্বগতিকে সীমিত করে তুলেছে। কনসালট্যান্সি প্রতিষ্ঠান মাইস্টিলের তথ্য অনুযায়ী, ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিল থেকে প্রধান সরবরাহকারীদের মোট সরবরাহ আগের সপ্তাহের তুলনায় ১১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ২ কোটি ৯৬ লাখ ৭০ হাজার টনে পৌঁছেছে।

সূত্র: বিজনেস রেকর্ডার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights