মুক্তার অলংকার তৈরি বিষয়ে ১৫ দিনের আবাসিক দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ শুরু

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জে মুক্তার অলংকার ও অন্যান্য সামগ্রী তৈরিতে হাতে-কলমে দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে উদ্যোক্তাদের জন্য ১৫ দিনের আবাসিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্যোগে রবিবার (২১ ডিসেম্বর) সকালে গোপালগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের মৎস্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. খালিদুজ্জামান।

প্রশিক্ষণের দুটি ব্যাচে ঢাকা, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের ১০ জেলার মোট ৩০ জন তরুণ-তরুণী উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করছেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রকল্পের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মুহম্মদ মনিরুল ইসলাম, উপ-প্রকল্প পরিচালক মো. খায়রুল ইসলাম, সহকারী প্রকল্প পরিচালক আসলাম হোসেন শেখ, প্রশিক্ষক বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই)-এর ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. ফেরদৌস সিদ্দিকী এবং বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. নাজমুল হোসেন।

প্রকল্প পরিচালক মো. খালিদুজ্জামান বলেন, প্রকল্প এলাকায় ঝিনুকের প্রাচুর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে পাইলটিং আকারে ঝিনুক ও মুক্তা চাষ প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়েছে। শামুক, ঝিনুক ও মুক্তা চাষের প্রদর্শনী এবং মুক্তার ভ্যালু চেইন উন্নয়নে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের কারিগরি সহায়তা নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রদর্শনী থেকে উৎপাদিত শামুক ও ঝিনুক বিক্রির মাধ্যমে চাষিদের বিকল্প আয় সৃষ্টি হবে এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। এ লক্ষ্যে প্রকল্পের আওতায় ১০০টি ঝিনুক প্রদর্শনী ও ২০০টি ঝিনুকে মুক্তা চাষ প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয় বাস্তবতা ও উপযোগিতার ভিত্তিতে প্রদর্শনীর আয়তন নির্ধারণ করা হয়েছে।

উৎপাদিত মুক্তা দিয়ে অলংকার ও অন্যান্য সামগ্রী তৈরি এবং মুক্তার ভ্যালু চেইন উন্নয়নে আগ্রহী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বাড়াতে অভিজ্ঞ কারিগরের মাধ্যমে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। একই সময়ে দুটি ভেন্যুতে প্রকল্প এলাকার মোট ৩০ জন উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্যোক্তারা স্থানীয় মৎস্য দপ্তরের সহায়তায় পণ্য উৎপাদন করবেন এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পণ্য বাজারজাতকরণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

এ প্রশিক্ষণে রিসোর্স পারসন হিসেবে মৎস্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও উদ্যোক্তা বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights