যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ফিরেছে বড়দিনের উৎসব

অনলাইন ডেস্ক

দখলদার ইসরায়েলর আগ্রাসনে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় দুই বছর পর ফিলিস্তিনে ফিরছে বড়দিনের আনন্দ। অন্ধকারে থাকা যিশুর জন্মস্থল বেথলেহেমে বড়দিনের আগমনে আলোয় ভরে উঠেছে ‘ক্রিসমাস ট্রি’।

দুবাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়,বেথলেহেমে বড়দিনের আনন্দ ছড়িয়ে দিচ্ছেন ফিলিস্তিনি নারী মারিয়া খুরি। খেজুর দিয়ে তৈরি করছেন বিশেষ চকলেট। বড়দিন উপলক্ষে এসব চকলেট বিক্রি হচ্ছে বেথলেহেমের ঐতিহাসিক চার্চ অব ন্যাটিভিটির কাছে ক্রিসমাস মার্কেটে।

স্থানীয় ক্যাথলিকদের নিয়ে গঠিত সাধারণ গায়কদলের সঞ্চালক জোসেফ হাজবোন বলেন, বড়দিনের রাতে যুদ্ধ সমাহিত হয়, বড়দিনের রাতে ভালোবাসার জন্ম হয়। প্রতি বছর মধ্যরাতের প্রার্থনার সময় স্থানীয় একটি গায়কদল গান গায়। এই বছরের প্রার্থনার আগে যখন তারা মহড়া দিচ্ছিল, তখন অনেক গায়কদল সদস্য বলেছিলেন, গাজায় যুদ্ধবিরতির পর শব্দগুলি আরও গভীর অর্থের সাথে প্রতিধ্বনিত হয়েছে। যতই অসুবিধা হোক না কেন, অন্ধকার হোক না কেন, সর্বদা আলো থাকে এবং সেই আশা সর্বদা জীবন্ত থাকে।

ক্রিসমাস মার্কেটে ছোট্ট একটি স্টল দিয়েছেন ৩১ বছর বয়সী এই ফিলিস্তিনি নারী। শিশুদের মধ্যে বড়দিনের আনন্দ ফেরাতে তার এই উদ্যোগ। মারিয়া খুরি বলেন, গত দুই বছর শিশুদের বোঝানোই কঠিন ছিল যে বড়দিন কী, ছুটি মানে কী। এই সময়টা ফিলিস্তিনিদের জন্য অর্থনৈতিকভাবে খুবই খারাপ ছিল। মানুষ ন্যূনতম জিনিসও জোগাড় করতে পারত না।

বেথলেহেম থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরের শহর জেরিকো থেকে খেজুর সংগ্রহ করেন মারিয়া। কিন্তু পথে ২ থেকে ৩টি ইসরায়েলি চেকপয়েন্টে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় তাকে। দীর্ঘ অপেক্ষায় অনেক সময় খেজুর নষ্ট হয়ে যায়। এতো বাধা সত্ত্বেও থেমে যাননি মারিয়া। বেলজিয়াম থেকে আনা চকলেটের সঙ্গে ফিলিস্তিনের খেজুর ও বাদাম মিশিয়ে তৈরি করছেন ভিন্ন স্বাদের চকলেট।

শুধু মারিয়াই নন, গাজায় যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক সংকটে ফিলিস্তিনের অসংখ্য ছোট ব্যবসা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মাঝেও মারিয়ার এই উদ্যোগ বড়দিনে বেথলেহেমে উৎসবের আনন্দ ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights