নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষায় অনড় জবিশিস, উপাচার্যের রুমে অবস্থান কর্মসূচি

সমন্বিত গুচ্ছ পদ্ধতিতে থেকে বেড়িয়ে নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং তা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

মানববন্ধন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কক্ষে নিজস্ব পদ্ধতিতে ভর্তি নেওয়ার জন্য একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন ও ভর্তি পরীক্ষায় জন্য একটি কমিটি করার আহ্বান জানিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষকরা।

সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে প্রায় চার শতাধিক শিক্ষকের অংশগ্রহণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে উপাচার্যের কক্ষে অবস্থান নেয় শিক্ষকরা।
মানববন্ধনে শিক্ষক নেতারা বলেন, গুচ্ছ এমন একটি প্রক্রিয়া যা কোনো গবেষণা ছাড়াই আমাদের উপর চাপিয়ে দিয়েছে। এ চাপিয়ে দেওয়ার কারো অধিকার নেই। আর সবচেয়ে লজ্জার বিষয় হলো গত ১৫ মার্চ একাডেমিক কাউন্সিলের নিজস্ব পদ্ধতিতে যে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় সে সিদ্ধান্তগুলো কার্য বিবরণে বিকৃত ভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে গুচ্ছে অংশগ্রহণের ফলে আমাদের যে সেশনজট তৈরি হয়েছে তা আসলেই দুঃখজনক।

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. জাকারিয়া মিয়া বলেন, আমরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের যে আইন আছে সে অনুযায়ীই ভর্তি পরীক্ষা নিতে চাই। একাডেমিক কাউন্সিলে সে সিদ্ধান্ত হয়েছে তা বাস্তবায়নে করতে প্রশাসনের কেন এত অনীহা। একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে যদি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবারও গুচ্ছে যায় তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অমান্যের জন্য উচ্চ আদালতে যাওয়ার প্রয়োজন হয় তাহলে সেখানেই যাবে যাবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমাজ।

গুচ্ছ পরীক্ষা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম বলেন, উপাচার্য আমাদের আজকের দাবিগুলো মেনে নিয়ে আবারো ৫/৬ তারিখে বিশেষ একাডেমিক সভার আহ্বান করেছেন। ওই একাডেমিক সভায় নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার জন্য একটি কেন্দ্রীয় কমিটি ও ইউনিট ভিত্তিক কমিটি গঠন করে আগামী ৮ এপ্রিল সিন্ডিকেট সভায় সেগুলো উন্থাপন করা হবে। আর গত অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তগুলো বিকৃতভাবে লিপিবদ্ধ করা হয় সেটাও আমাদের উপস্থিতিতেই সংশোধন করে দিয়েছেন উপাচার্য।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক বলেন, আগামী ৮ তারিখ সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা হয়েছে। ওই সিন্ডিকেট সভায় সকল বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights