অস্ট্রেলিয়ায় বন্দুক হামলা: প্রাণ বাজি রাখার কারণ জানালেন সেই আহমেদ

অনলাইন ডেস্ক

সিঙ্গাপুর বা লন্ডনের মতো ব্যস্ত অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডি বিচ। সেখানেই আয়োজিত ইহুদিদের হানিুক্কাহ অনুষ্ঠানে বন্দুকধারীদের অকস্মাৎ হামলায় চারপাশ রক্তাক্ত হয়ে উঠছিল। ঠিক সেসময় নিজের জীবনের পরোয়া না করে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন এক ব্যক্তি। তিনি আহমেদ আল আহমেদ, যাকে এখন গোটা অস্ট্রেলিয়া ‘বন্ডি হিরো’ হিসেবে চেনে।

সেই ভয়ংকর মুহূর্তের স্মৃতি চারণ করে আহমেদ জানিয়েছেন, চোখের সামনে নিরপরাধ মানুষের মৃত্যু দেখতে পারছিলেন না বলেই তিনি বন্দুকধারীকে রুখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

সিরিয়ায় জন্ম নেওয়া এবং বেড়ে ওঠা আহমেদ বর্তমানে সিডনির একজন ব্যবসায়ী।

গত ১৪ ডিসেম্বরের সেই হামলায় ১৫ জন নিহত হন। আহত হন অন্তত ৪০ জন। এটি ১৯৯৬ সালের পর অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা। হা

মলার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, দুই বন্দুকধারীর একজন সাজিদ আকরামের ওপর পেছন থেকে ঝাঁপিয়ে পড়েন আহমেদ। তিনি এক হাতে তাকে জাপটে ধরে অন্য হাতে বন্দুকটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

সে সময়ের কথা মনে করে আহমেদ জানান, তিনি কেবল চাইছিলেন বন্দুকটি কেড়ে নিয়ে আরও মানুষকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে। তবে সাজিদকে জাপটে ধরলেও অন্য বন্দুকধারীর গুলিতে আহমেদ নিজে বেশ কয়েকবার কাঁধে গুলিবিদ্ধ হন।

হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আহমেদ বলেন, সেই মুহূর্তে তার মস্তিষ্কে এক অভাবনীয় শক্তি কাজ করছিল। মানুষের চিৎকার আর আকুতি তাকে স্থির থাকতে দেয়নি। তার ভাষায়, নিজের অন্তর থেকেই তিনি এই কাজে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন। যদিও তিনি অনেক প্রাণ বাঁচাতে পেরেছেন, তবুও যারা মারা গেছেন তাদের জন্য গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এই দুই সন্তানের জনক।

এই বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ সাধারণ মানুষ ও প্রবাসী সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসার জন্য ইতিমধ্যে প্রায় ২৫ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ হাসপাতালে আহমেদকে দেখতে গিয়ে তাকে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে অভিহিত করেছেন। নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিনসও তাকে সত্যিকারের নায়ক বলে বর্ণনা করেন।

বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহমেদের শরীরে বেশ কয়েকটি অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। পুলিশ এই ঘটনাকে ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে চালানো একটি সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে ঘোষণা করেছে। হামলায় অংশ নেওয়া সাজিদ আকরাম পুলিশের গুলিতে নিহত হলেও তার ছেলে নাভিদ বর্তমানে চিকিৎসাধীন এবং তার বিরুদ্ধে ১৫টি খুনের মামলাসহ মোট ৫৯টি অপরাধের চার্জ গঠন করা হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights