ডিএসসিসিতে কর্মকর্তাদের গাড়ি না চালানোর ঘোষণা চালকদের
অনলাইন ডেস্ক
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) কর্মকর্তাদের গাড়ি চালানো বন্ধ রেখেছেন করপোরেশনের পরিবহন চালকরা।
মঙ্গলবার থেকে এই কর্মসূচি পালন করছেন ডিএসসিসির কর্মকর্তাদের গাড়ির চালকরা। ফলে বাধ্য হয়ে মঙ্গলবার কর্মকর্তাদের গাড়ি ছাড়াই নগর ভবন ত্যাগ করতে হয়।
জানা গেছে, মঙ্গলবার পরিবহন চালক ফেরদৌসকে চাকরিচ্যুতির চিঠি পাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেন নগর ভবনের পরিবহন চালকরা। একপর্যায়ে চালকদের বিক্ষোভে নগর ভবনের কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে পায়ে হেঁটে নগর ভবন ছাড়েন কর্মকর্তারা। চালকরা ঘোষণা দিয়েছেন, ফেরদৌসের চাকরি পুনর্বহাল না হলে তারা কর্মকর্তাদের গাড়ি চালাবেন না।
সূত্র জানায়, গত ৩০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বিকেল ৪টা থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিবহন চালকদের বিক্ষোভে প্রায় ছয় ঘণ্টা নগর ভবনের কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ ছিলেন।
জানা যায়, মঙ্গলবার পরিবহন চালক ফেরদৌসকে চাকরিচ্যুত করার পরপরই পরিবহন চালকরা একত্রিত হয়ে নগর ভবনে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। কয়েকজন কর্মকর্তা গাড়িসহ বের হওয়ার চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীরা তাদের লাঞ্ছিত করেন।
একপর্যায়ে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, “আপনাদের দাবি শুনেছি। তদন্ত করে দেখতে একটু সময় দিন, আমি ব্যবস্থা নেব।”
পরে পরিবহন চালকদের সভাপতি ও অন্যান্য বিক্ষোভকারীরা সিদ্ধান্ত নেন, চালক ফেরদৌসের চাকরি পুনর্বহাল ও তিন পরিবহন কর্মকর্তার বদলি না করা হলে এবং বৃহস্পতিবারের মধ্যে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ময়লার গাড়ি ও বৈদ্যুতিক গাড়িও বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এদিকে কর্মকর্তাদের দাবি, চালক ফেরদৌস গোলাপবাগ এলাকায় ময়লাসহ একটি ময়লার গাড়ি ফেলে রেখে চলে যান। একপর্যায়ে দুর্গন্ধ ছড়ালে এলাকাবাসী ফোন করেন। তখন ফেরদৌসকে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করলেও গাড়িটি সরাননি। তবে ফেরদৌসের দাবি, গাড়িটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তা সরানো সম্ভব হয়নি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন পরিবহন ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম তালুকদার বলেন, “আমাদের এক চালক ভাইয়ের কোনো দোষ না থাকলেও বিনা কারণে শোকের মধ্যে (খালেদা জিয়ার মৃত্যু) তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অথচ চালকের কোনো ভুল নেই। দোষটা অফিসারদের। এই কারণেই আমরা অফিসারদের গাড়িগুলো চালানো বন্ধ রেখেছি। যতক্ষণ পর্যন্ত আমার ভাইয়ের চাকরি ফেরত না দেওয়া হবে, ততক্ষণ আমরা গাড়ি চালাব না।”
তিনি আরও বলেন, “দেশের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, গণতন্ত্রের মা-তার মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। এই কারণে আমরা ময়লাবাহী গাড়ি বন্ধ রাখিনি, কারণ নগরবাসীদের কোনো দোষ নেই। আমরা ময়লার গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স ও বিদ্যুৎ বিভাগের গাড়ি চালু রেখেছি। শুধু অফিসারদের গাড়ি বন্ধ রাখা হয়েছে। আমার চালক ভাইয়ের চাকরি ফেরত না দিলে এই আন্দোলন চলবে।”
চালকদের অভিযোগ, চালক ফেরদৌসের চাকরি যাওয়ার পেছনে শ্রমিক দল নেতা আরিফ চৌধুরীর সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাদের দাবি, কয়েক মাস আগে সিটি করপোরেশনের গাড়ির তেল চুরি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়, যেখানে আরিফ চৌধুরীর নাম উঠে আসে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করে। এসব তথ্য ফাঁসের অভিযোগে অনেক চালককে টার্গেট করা হয়ে থাকতে পারে।
জানা গেছে, গত ৭ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের গাড়ির তেল চুরির অভিযোগে অভিযান চালায়। পরে জানানো হয়, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তেল চুরির ঘটনায় চালক থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়। দুদক ডিএসসিসি কর্মকর্তাদের জন্য বরাদ্দ সরকারি গাড়ির জ্বালানি খরচের ভুয়া বিল দেখিয়ে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে নগর ভবনে এ অভিযান চালায়।
উল্লেখ্য, গত ৪ সেপ্টেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলনের কারণে নগর ভবন টানা ৪০ দিন বন্ধ ছিল। অথচ সেই সময় ডিএসসিসির কর্মকর্তারা অফিসে না এলেও তাদের জন্য বরাদ্দ গাড়ির প্রতিদিন ১৪–১৫ লিটার জ্বালানি খরচ দেখানো হয়েছে।
