ক্রিপ্টোকারেন্সিতে ব্যালিস্টিক মিসাইল-ড্রোন বিক্রি করছে ইরান
অনলাইন ডেস্ক
ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা রপ্তানি সংস্থা এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছে ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং পণ্য বিনিময়ের মাধ্যমে উন্নত অস্ত্রশস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফিনানশিয়াল টাইমসের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত মিনডেক্স নামক এই রপ্তানি কেন্দ্রটি তাদের অনলাইন পোর্টালে ব্যালিস্টিক মিসাইল, ড্রোন, যুদ্ধবিমান এবং রাডার সিস্টেমসহ তিন হাজারেরও বেশি সামরিক সরঞ্জামের বিজ্ঞাপন প্রচার করছে। সংস্থাটি তাদের পোর্টালে লেনদেনের শর্ত হিসেবে প্রথাগত ব্যাংক ট্রান্সফারের পাশাপাশি ডিজিটাল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সি, ক্রেতা দেশের স্থানীয় মুদ্রা এবং বার্টার বা পণ্য বিনিময়ের সুযোগ রেখেছে।
মিনডেক্সের অনলাইন প্ল্যাটফর্মটি ইরানের একটি ক্লাউড সরবরাহকারীর মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এটি ইতোমধ্যেই ওয়াশিংটনের কালো তালিকাভুক্ত। ক্রেতাদের আশ্বস্ত করতে সংস্থাটির ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর বিষয়ে ইরানের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও বিশেষ নীতিমালা রয়েছে, তাই চুক্তি বাস্তবায়নে কোনো আইনি জটিলতা হবে না। তারা আরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ক্রয়কৃত সামরিক সরঞ্জামগুলো অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হবে।
১৯৮৯ সাল থেকে কার্যক্রম শুরু করা এই সংস্থাটি মূলত ইরানের প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনী লজিস্টিকস মন্ত্রণালয়ের একটি শাখা, যার ওপর ২০০৭ সাল থেকেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এই ধরণের লেনদেনের বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা জারি করেছে। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, ইরান সমর্থিত এই ছায়া ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করে কেউ নিষেধাজ্ঞার আওতা থেকে রেহাই পাবে না। যেসব দেশ বা সংস্থা মিনডেক্সের মাধ্যমে সামরিক সরঞ্জাম কিনবে, তারা মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি কঠোর সেকেন্ডারি স্যাংশনের মুখে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে। সম্প্রতি রাশিয়া এবং ভেনিজুয়েলার মতো দেশগুলোতে অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে ইরানের একাধিক নেটওয়ার্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ডিজিটাল কারেন্সি ব্যবহার করেও এই ধরণের আন্তর্জাতিক আইনি পদক্ষেপ এড়ানো সম্ভব নয়।
