মিয়ানমারে প্রথম ধাপের নির্বাচনে এগিয়ে সেনা সমর্থিত দল

অনলাইন ডেস্ক

গৃহযুদ্ধের মুখে মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের প্রথম ধাপে দেশটির সেনা সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি(ইউএসডিপি) এগিয়ে রয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ইউনিয়ন নির্বাচন কমিশন (ইউইসি) ৫৬টি আসনের ফলাফল প্রকাশ করেছে।

ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, অবসরপ্রাপ্ত জেনারেলদের নেতৃত্বে ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) পাইথু হ্লাটাও বা নিম্নকক্ষের ৪০টি আসনের মধ্যে ৩৮টিতে জয়লাভ করেছে।

২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর প্রথমবারের মতো দেশটিতে জাতীয় নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। অভ্যুত্থানের পর গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভ দমনের পর দেশব্যাপী বিদ্রোহের পর ক্ষমতাসীন জান্তা সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জান্তা সরকারের দাবি, তিন ধাপের ভোটের মধ্যে দিয়ে দেশ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। যদিও প্রথম ধাপে ভোটার উপস্থিতি কম ছিল।

ঘোষিত ফলাফলে শান ন্যাশনালিটিস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি, যা হোয়াইট টাইগার পার্টি নামেও পরিচিত এবং মন ইউনিটি পার্টি (এমইউপি) একটি করে আসন জয় পেয়েছে। অন্যদিকে ইউএসডিপি ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট সিস্টেমে গণনা করা ১৫টি আঞ্চলিক বা রাজ্য হালুটাও আসনের মধ্যে ১৪টি আসন জিতেছে। যেখানে আখা ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট পার্টি একটিতে জয় পেয়েছে। উচ্চকক্ষ, অথবা অ্যামিওথা হ্লাটাও-এর জন্য, শুধুমাত্র একটি আসন ঘোষণা করা হয়েছে, যেটি ওয়া ন্যাশনাল পার্টি জিতেছে।

তবে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য কোনও তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। এখনও নির্বাচন প্যানেল প্রথম ধাপে মোট কতটি আসন ভোট পড়েছে এবং নির্বাচনী এলাকা অনুসারে আংশিক ফলাফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও দেশটিতে নির্বাচন নিয়ে জাতিসংঘ, কিছু পশ্চিমা দেশ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, নির্বাচনে জান্তা বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে না এবং নির্বাচনের বিষয়ে কার মতামত গ্রহণ করা হচ্ছে না।

এর আগে বুধবার জান্তা সরকার জানিয়েছে, নির্বাচনে ৫২ শতাংশ ভোট পড়েছে। তাদের দাবি নির্বাচনে ভোটারদের অর্ধেকেরও বেশি প্রথম ধাপে ভোট দিয়েছেন।

তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেক্টোরাল সিস্টেমস অনুসারে, ২০২০ এবং ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচনে ভোটদানের হার প্রায় ৭০ শতাংশ ছিল। আগামী ১১ জানুয়ারী ও ২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত আরও দুটি দাফে মিয়ানমারের ৩৩০টি শহরের মধ্যে ২৬৫টিতে অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে কিছুতে জান্তার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেই।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে সাধারণ নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়লাভের কয়েক মাস পর সেনাবাহিনী কর্তৃক নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু চিকে আটক রাখা হয়েছে। তার ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধের মধ্যেও একটি স্থিতিশীল সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য জান্তা সরকারের প্রচেষ্টা ঝুঁকিপূর্ণ। তাদের জন্য বৈদেশিক স্বীকৃতি পাওয়া অসম্ভব।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights