ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিতে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চাইলো ইরান
অনলাইন ডেস্ক
জীবনযাত্রার ঊর্ধ্বমুখী ব্যয়ের প্রতিবাদে ইরানে চলা বিক্ষোভের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া হুঁশিয়ারির প্রতিবাদে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চেয়েছে তেহরান। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২ জানুয়ারি) জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতিকে একটি চিঠি পাঠান জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি।
তিনি চিঠিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যকে ‘উসকানিমূলক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ আখ্যা দিয়ে এসব মন্তব্যের কঠোর নিন্দা জানানোর আহ্বান জানান। গতকাল শুক্রবার ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল বলেছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ইরানে চলমান বিক্ষোভে যদি আরও কোনও বিক্ষোভকারী নিহত হন, তাহলে আমেরিকা প্রদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
চিঠিতে বলা হয়, অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা উসকে দেওয়া, উৎসাহিত করা কিংবা বৈধতা দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টা ইরানের সার্বভৌমত্ব, রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার গুরুতর লঙ্ঘন। তিনি সতর্ক করে দেন, এ ধরনের বক্তব্য থেকে সৃষ্ট যেকোনো পরিস্থিতির সম্পূর্ণ দায় যুক্তরাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে।
গত রবিবার তেহরানের উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক স্থবিরতার প্রতিবাদে ধর্মঘটে নামার পর থেকেই দেশজুড়ে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। এ পর্যন্ত অন্তত সাতজন নিহত এবং ৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কুম প্রদেশের উপগভর্নর জানান, বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার চেষ্টায় হাতে গ্রেনেড বিস্ফোরণে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানি ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, মার্কিন হস্তক্ষেপ পুরো অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ধ্বংসের শামিল হবে।
উল্লেখ্য, গত জুনে ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়, যাকে ট্রাম্প ‘খুব সফল অভিযান‘ বলে বর্ণনা করেছিলেন। সম্প্রতি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, ইরান পারমাণবিক বা ব্যালিস্টিক কর্মসূচি এগিয়ে নিলে যুক্তরাষ্ট্র ‘কঠোর জবাব‘ দেবে।
