সুইজারল্যান্ডে বারে ৪০ জন নিহতের পেছনে শ্যাম্পেনের আতশবা
অনলাইন ডেস্ক
ভ্যালাইসের অ্যাটর্নি জেনারেল বিট্রিস পিলাউড শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আগুনের উৎস নিয়ে একাধিক সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, শ্যাম্পেন বোতলের সঙ্গে লাগানো স্পার্কলার বা ঝলমলে আতশবাতি ছাদের খুব কাছাকাছি চলে যাওয়ায় আগুনের সূত্রপাত হয়।
তার ভাষায়, ‘আমরা কোনো সম্ভাবনাই বাদ দিচ্ছি না। তবে বর্তমানে যে ধারণা সবচেয়ে জোরালো, তা হলো স্পার্কলার থেকেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।’ ঘটনাস্থল থেকে প্রাথমিক আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নতুন বছরের প্রথম প্রহরে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনাকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ ট্র্যাজেডি হিসেবে বর্ণনা করছেন কর্মকর্তারা।
বিট্রিস পিলাউড বলেন, তদন্তে সাইটে ব্যবহৃত উপকরণ, বারের অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, এর ধারণক্ষমতা এবং আগুন লাগার সময় ভিতরে থাকা লোকের সংখ্যার ওপর আলোকপাত করা হবে। তদন্তে বিচারের প্রয়োজন হবে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে।
তিনি বলেন, ‘যদি তাই হয় এবং যদি সেই ব্যক্তিরা এখনও বেঁচে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।’
পিলাউড সম্মেলনে আরো বলেন, ‘সবকিছুই বিবেচনা করে হচ্ছে আগুন জ্বলন্ত মোমবাতি থেকে অথবা আতশবাতি (যা শ্যাম্পেনের বোতলে রাখা হয়েছিল) থেকে শুরু হয়েছিল। আগুনের ফুলকি ছাদের খুব কাছে চলে আসে এবং সেখান থেকে খুব দ্রুত আগুনের ছড়িয়ে যায়।’
তিনি বলেন, তদন্তে বার সিলিংটি ভবনের নিয়ম মেনে চলে কি না তাও খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তকারীরা সিলিংয়ে ফোম স্থাপনের বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।
বারের একজন মালিক স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গত দশ বছরে তিনবার প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করা হয়েছে এবং সবকিছু নিয়ম মেনে করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এখনও অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৪০ জনের আনুষ্ঠানিক শনাক্তকরণের কাজ করছে।
পুলিশ কমান্ডার ফ্রেডেরিক গিসলার বলেছেন ‘এখন এটাই আমাদের অগ্রাধিকার।’ ভ্যালাইস অঞ্চলের সভাপতি ম্যাথিয়াস রেইনার্ড বলেছেন, ‘আগুনে আহতদের মধ্যে অনেকেই গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন এবং এখনও বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করছেন।’
আহতদের মধ্যে ১১৩ জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে বলে গিসলার বলেছেন।
এই সংখ্যায় ৭১ জন সুইস নাগরিক, ১৪ জন ফরাসি এবং ১১ জন ইতালীয় ও পাশাপাশি চারজন সার্ব আছেন। পুলিশ কমান্ডার ফ্রেডেরিক গিসলার আরো বলেন, ছয়জনের আনুষ্ঠানিক শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া চলছে এবং সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।
রেইনার্ড বলেছেন, ‘প্রায় ৫০ জন ব্যক্তি গুরুতরভাবে পুঁড়ে গেছে। তাদের বিশেষায়িত কেন্দ্রগুলিতে ইউরোপীয় দেশগুলোতে স্থানান্তরিত করা হয়েছে অথবা শীঘ্রই স্থানান্তর করা হবে।’
আহতদের মধ্যে ১৯ বছর বয়সী ফরাসি ফুটবলার তাহিরিস দোস সান্তোসও রয়েছেন বলে তার ফুটবল ক্লাব এফসি মের্টজ কর্তৃক প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
ক্লাব জানিয়েছে, ‘আগুনে গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছেন দোস সান্তোস এবং তাকে চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে বিমানে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’ অগ্নিকাণ্ডের পর নিখোঁজদের পরিবার শুক্রবার সন্ধ্যায় কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আপডেটের জন্য উদ্বিগ্নভাবে অপেক্ষা করছে। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন ১৬ বছর বয়সী ইতালীয় নাগরিক আচিল বারোসি।
তার খালা ফ্রান্সেসকা বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের ওএস প্রোগ্রামকে জানিয়েছেন, ‘আমরা জানি না সে এখনও বেঁচে আছে কি না?’ তিনি বলেন, ‘তার ভাগ্নে একজন দুর্দান্ত চিত্রশিল্পী ছিলেন এবং মিলানের একটি আর্ট স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন।’
এদিকে আগুন লাগার সময় বারের ভেতরে ঠিক কতজন ছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এর ধারণক্ষমতা ছিল ৩০০ জনের। ৯ জানুয়ারি ক্রানস-মন্টানায় অগ্নিকাণ্ডে মৃত ব্যক্তিদের স্মরণে ‘জাতীয় শোক’ পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সূত্র: বিবিসি
সুইজারল্যান্ডে ৪০ জন নিহতের ঘটনায় পাঁচ দিনের শোক
সুইজারল্যান্ডে মদের দোকানে বিস্ফোরণে নিহত ৪০
