এ-ফোর বসুন্ধরা পেপার-ক্র্যাব বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড পেলেন যারা

অনলাইন প্রতিবেদক

অপরাধবিষয়ক সেরা প্রতিবেদনের জন্য বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এ-ফোর বসুন্ধরা পেপার অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ‘এ-ফোর বসুন্ধরা পেপার ক্র্যাব বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’ প্রদান করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

অনুষ্ঠানে সেরা রিপোর্টারদের নাম ঘোষণা করেন ক্র্যাব সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল। ক্র্যাবের সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহর সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন কার্যনির্বাহী কমিটি-২০২৫ এর সদস্যবৃন্দ এবং সংগঠনের সাধারণ সদস্যরা।

বক্তব্য রাখেন ক্র্যাবের সাবেক সভাপতি খায়রুজ্জামান কামাল, মধুসূদন মন্ডল, ইসারফ হোসেন ইসা, মিজান মালিক, কামরুজ্জামান খান, ডিআরইউ’র সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ ও জাতীয় প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী সদস্য মোমিন হোসেন। আরও উপস্থিত ছিলেন ক্র্যাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম লাবলু, সারোয়ার আলম, আলাউদ্দিন আরিফ ও সিরাজুল ইসলামসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।

এ বছর মোট পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ‘এ-ফোর বসুন্ধরা পেপার ক্র্যাব বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’ প্রদান করা হয়। ক্যাটাগরি ও বিজয়ীরা হলেন-অপরাধ বিষয়ক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন (প্রিন্ট) বিভাগে দৈনিক প্রথম আলোর মাহমুদুল হাসান, অপরাধ বিষয়ক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন (টিভি) ক্যাটাগরিতে যৌথভাবে চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের মো. শাহরিয়ার আরিফ ও নিউজ টোয়েন্টিফোর নাঈম আল জিকো, সাইবার অপরাধ/নারী ও শিশু/মানব পাচার (প্রিন্ট) ক্যাটাগরিতে যৌথভাবে পেয়েছেন ঢাকা পোস্টের প্রধান প্রতিবেদক আদনান রহমান ও দৈনিক প্রথম আলোর মাহমুদুল হাসান, সাইবার অপরাধ/নারী ও শিশু/ মানব পাচার (টিভি) ক্যাটাগরিতে যমুনা টিভির মো. রাশেদ নিজাম, মাদক বিষয়ক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন (প্রিন্ট) দ্য ডেইলি স্টারের মোহাম্মদ জামিল খান।

বিজয়ীদের হাতে এক লাখ টাকার চেক, ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি অনুষ্ঠানে ক্র্যাব সদস্যদের কৃতি সন্তানদের পুরস্কৃত করা হয় এবং ক্র্যাব স্পোর্টস ফেস্ট-এর বিজয়ীদের হাতেও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

অ্যাওয়ার্ড প্রদান শেষে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ মো. সাজ্জাত আলী বিজয়ীদের উদ্দেশে বলেন, যারা আজ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন সবাইকে অভিনন্দন। আমরা চাই আপনারা এভাবে সংবাদ পরিবেশন করে যাবেন সমাজের দর্পণ হয়ে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, আমি পুলিশ কমিশনার হিসেবে যতই চেষ্টা করি আপনাদের বন্ধু বানানোর পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় আপনারা আমাকে ছাড় দিয়েন না। আমার সহকর্মীদেরও আপনারা ছাড় দেন না, সেটা আমার জানা। আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি পুলিশের সাথে বিশেষ করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাথে যাতে আপনাদের একটা সেতুবন্ধন থাকে। আপনারা আপনাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু আমার অনুরোধ সেই ক্ষেত্রে যেন কোনোরূপ বাড়াবাড়ি বা কোনো ধরনের ত্রুটির কারণে আমার সহকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। গত বছর এদেশের ইতিহাসে খুবই টার্বুলেন্ট একটি বছর ছিল।

তিনি বলেন, গত ২০২৪ সাল ছিল জুলাই আন্দোলন। কিন্তু ২৫ সাল তার কনসিকোয়েন্সেস। তার ফলে ২০২৫ সালটা ছিল আরও বেশি টার্বুলেন্ট। শত শত ক্রাউড কন্ট্রোল, নানা গোষ্ঠী, বিভিন্ন মহলের দাবি-দাওয়া নিয়ে রাস্তায় বের হওয়া, রাস্তায় ব্লক সৃষ্টি করা, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঢাকাবাসীকে রাস্তার মধ্যে বসে থাকা খুবই দুঃখজনক। যে মানুষটি অসুস্থ হাসপাতালে যেতে চায় ইমারজেন্সি, যে মা-বোনের ডেলিভারির কেস তাকে অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে কষ্ট পেতে হয়। কিন্তু আমি কোনোভাবেই বহুবার আমার মিডিয়া সেন্টারে রিকোয়েস্ট করার পরেও আমার অনুরোধ কেউ শোনেনি। শহরবাসীর ব্যাপক দুর্ভোগ। আমাদের এই ধরনের কালচার প্র্যাকটিস থেকে বের হয়ে আসাটা খুবই জরুরি।

তিনি আরও বলেন, আপনারা এই ব্যাপারে লেখেন যে আন্দোলন করা গণতান্ত্রিক অধিকার, গণতান্ত্রিক উপায়। কিন্তু যেখানে ট্রাফিকের এই ভয়ঙ্কর অবস্থা, সেই শহরে যদি রাস্তা ব্লক হয় মানুষের দুর্ভোগের কোনো শেষ থাকে না। আপনারা আমার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে লিখবেন, না কী করবেন জানি না। তবে আমার এই ১৪ মাসে আমার কয়টি ভুল হয়েছে, এটা লিখলে আমি খুশি হব।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের ১২ তারিখে জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতিমধ্যে পুলিশ ডিপার্টমেন্টে ব্যাপক রদ-বদল এবং সেই রদ-বদল লটারির মাধ্যমে হয়েছে। মফস্বলের ক্ষেত্রে ভিন্ন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ একটি ভিন্ন প্রতিষ্ঠান অর্গানাইজেশন উইথন দি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট। এখানে ভোলার তমিজউদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জকে নিয়ে এসে গুলশানের ওসি করলে সে পারে না।

তিনি বলেন, তারপরে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম মফস্বল থেকে আনলে আপনাদেরই অসুবিধা হবে। ঢাকার অফিসার ইনচার্জ যারা ছিল কিছু বাদ দিয়ে তাদের ভেতরেই লটারি করে আমি অফিসার ইনচার্জ করেছি। সেক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে, যে সবুজবাগ থানায় ছিল, তার ভাগ্যে যদি মোহাম্মদপুর পড়ে থাকে, সবুজবাগের অফিসার হিসেবে যে ধরনের কন্ট্রোল ক্যাপাসিটি থাকা দরকার, সেটা দিয়ে মোহাম্মদপুর চলে না। তাই এই অসুবিধার ভেতরেও আমার অফিসাররা কাজ করে যাচ্ছে। আগামী ৪০ দিন যদি আমরা আইন-শৃঙ্খলা এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি, তাহলে নির্বাচনটা সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব হবে। আমাদের কাছে এখন টপ প্রায়োরিটি জাতীয় নির্বাচন। জানুয়ারি মাসের ২১ বা ২২ তারিখ থেকে সম্ভবত ক্যাম্পেইন শুরু হবে। তখনই সবচেয়ে বড় জটিলতা হওয়ার কথা। একপক্ষ আরেক পক্ষকে দোষারোপ করবে, এটা-সেটা অভিযোগ আসবে। আপনারাও খেয়াল রাখেন আমরা নিরপেক্ষতার সাথে কাজ করতে চাই। নির্বাচনই এখন আমাদের মুখ্য বিষয়। জাস্ট বর্তমান প্রেক্ষাপটে বর্তমান সময়ে ঢাকা মহানগরী আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিশেষ করে অপরাধ খুবই নিয়ন্ত্রণে আছে। ছিনতাই খুব কম। সবদিক দিয়ে খুব কম অপরাধ। তো আগামীতে যাতে এটা আমরা ধরে রাখতে পারি সেটার জন্য সবাই দোয়া করবেন।

হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি ফয়সালের ভিডিও বার্তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, হাদির বিষয়ে যে প্রশ্ন করা হয়েছে নো-কমেন্ট। ভিডিওটা আমরা পেয়েছি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতেছি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বক্তব্য দেব।

নির্বাচন উপলক্ষে প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে বর্তমান প্রার্থীদের নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়ে বলব আমরা দিচ্ছি, অনেকেই চাচ্ছে। আমাদের রিসোর্স সক্ষমতার দিকে তাকাতে হচ্ছে। এখন আপনার জীবনের প্রতি কতটা হুমকি আছে, এইটা আমরা এসবিকে দিয়ে যাচাই করি। যাচাই করার পরে এসবি যখন বলে যে ইয়েস এক্স, ওয়াই, জেড’র জীবনের নিরাপত্তার ঝুঁকি আছে, তখন এসবি অথবা আমি গানম্যান দিচ্ছি। তবে বেশ কিছুজনকে গানম্যান দেওয়া হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনারদের বিশেষ করে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। আগামীতেও যদি কেউ ক্যান্ডিডেট বা ওরকম কোনো ব্যক্তি যদি জীবনের নিরাপত্তা বা ঝুঁকির কথা আমাদের বলে আমরা যাচাই করে দেখে আমরা গানম্যান দিতে প্রস্তুত আছি।

তিনি বলেন, তবে সবসময় মনে রাখবেন আমাদের গরিব দেশ, গরিব পুলিশ ডিপার্টমেন্ট। আমাদের নির্বাচন হলো টপ প্রায়োরিটি। আমি যদি সব লোকবল এই ধরনের কাজেই নিয়োগ করি, তাহলে আমার ভোটকেন্দ্র কে পাহাড়া দেবে? আমার তো ভোটকেন্দ্র পাহাড়া দেওয়াটা, তারপরে মাস্তানি সন্ত্রাসী নানা ধরনের ভোটের যে জটিলতা আছে, এগুলোকে আমাকে প্রায়োরিটি দিতে হচ্ছে। তাই আমরা সবদিকে ব্যালেন্স করে রিসোর্সের দিকে তাকিয়ে কতটুকু কী সম্ভব, সেটা করার চেষ্টা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights