দেশবাসীকে ‘সশস্ত্র সংগ্রামের’ আহ্বান মাদুরোর ছেলের
অনলাইন ডেস্ক
মাদক পাচারের অভিযোগে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে তুলে নেয়ার ঘটনায় প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন তার ছেলে নিকোলাস মাদুরো গুয়েরা।
তিনি দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলার তেল ও খনিজ সম্পদ দখলের জন্য ‘ঔপনিবেশিক সামরিক আগ্রাসনের’ অংশ হিসেবে তার বাবা এবং তার মাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বন্দী করেছে। তিনি জরুরি অবস্থা জারি করেন এবং আগ্রাসন মোকাবেলায় ‘সশস্ত্র সংগ্রামের’ আহ্বান জানিয়েছেন।
এক ভিডিও বার্তায় মার্কিন বাহিনী তার বাবাকে ক্ষমতাচ্যুত করে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে পাঠানোর পর গুয়েরা এ আহ্বান জানান। মাদুরোর ছেলে ৩৫ বছয় বয়সী নিকোলাস মাদুরোও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আনা অভিযোপত্রের অন্যতম আসামি। অভিযোগপত্র অনুসারে, ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের সদস্য মাদুরো গুয়েরা ‘নিকোলাসিতো” বা ‘রাজপুত্র’ নামেও পরিচিত।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ১৯৯০ সালে তার বাবার প্রথম স্ত্রী আদ্রিয়ানা গুয়েরার আঙ্গুলোর ঘরে জন্ম নেওয়া মাদুরো গুয়েরার জন্ম ২০১৪ সালে। তার বাবার সরকারের একজন ডেপুটি হিসেবে কাজ শুরু করেন। মাদুরো গুয়েরার অনেকেই ভেনেজুয়েলার সাবেক রাষ্ট্রপতি হুগো শ্যাভেজের প্রতিষ্ঠিত সমাজতান্ত্রিক আদর্শ, চাভিসমো আন্দোলনের উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হত।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে নিকোলাস মাদুরো রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর, মাদুরো তার একমাত্র পুত্র নিকোলাস মাদুরো গুয়েরাকে ‘প্রেসিডেন্সির বিশেষ পরিদর্শকদের কর্পসের প্রধান’ হিসেবে নিযুক্ত করেন। চারবছর পর, মাদুরো গুয়েরা ভেনেজুয়েলার জাতীয় গণপরিষদে নির্বাচিত হন এবং ২০২১ সালে তিনি দেশটির জাতীয় পরিষদে নির্বাচিত হন। যেখানে তিনি এখনও দায়িত্ব পালন করছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক বার্তায় ৩৫ বছর বয়সি মাদুরো গুয়েরা বলেন, আপনারা আমাদেরকে রাজপথে দেখতে পাবেন, জনগণের পাশে দেখবেন, মর্যাদার পতাকা উড়াতে দেখবেন। তিনি আরও বলেন, তারা আমাদের দুর্বল দেখতে চায়, কিন্তু আমরা দুর্বলতা দেখাব না।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে গুয়েরার সহকর্মীরা বার্তাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। কারাকাসে সুরক্ষিত থাকা অবস্থায় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে আটক করে দেশটির বাইরে নিয়ে যাওয়া নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। অনেকে বলছেন, মাদুরোর ঘনিষ্ঠ কেউ হয়তো বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার ভেনেজুয়েলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে বন্দি করে নিয়ে যায়। তিনি বর্তমানে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টার অবস্থান করছেন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর শনিবার রাতেই মাদুরো ও তার স্ত্রীকে বন্দিশিবিরে পাঠানো হয়েছে। নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীর সিলিয়ার বিরুদ্ধে মাদক এবং অস্ত্র চোরাচালানের অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্র।
