যে দেশে বিলিয়ন ডলার মূল্যের সোনা বিক্রি করেছেন মাদুরো
অনলাইন ডেস্ক
ভেনেজুয়েলা থেকে সুইজারল্যান্ডে বিপুল পরিমাণ সোনা বিক্রি হয়েছে নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতায় থাকাকালীন। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রয়টার্স কাস্টমসের তথ্য উদ্ধৃত করে এ খবর জানিয়েছে।
কাস্টমসের তথ্যমতে, মাদুরো যখন ক্ষমতা গ্রহণ করেন তখন ২০১৩ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪.১৪ বিলিয়ন সুইস ফ্রাঙ্ক (৫.২০ বিলিয়ন ডলার) মূল্যের সোনা গেছে সুইজারল্যান্ডে। যার পরিমাণ অন্তত ১১৩ মেট্রিক টন। সুইস সম্প্রচারমাধ্যম এসআরএফ জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সোনা পাঠানোর উৎস ছিল। তখন দেশটির অর্থনীতি চরম সংকটের মুখে ছিল। মূলত সেই পরিস্থিতি সামাল দিতেই স্বর্ণের মজুত বিক্রি করে দেওয়ার পথ নেয় সরকার। এরপর ২০১৭ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার কারণে শুল্ক তথ্যানুসারে, ২০১৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা থেকে আর কোনো সোনা রপ্তানি হয়নি সুইজারল্যান্ডে।
এদিকে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার সহযোগীদের সম্পদ তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুইজারল্যান্ড। এক বিবৃতিতে সুইস সরকার বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে অবৈধভাবে অর্জিত কোনো সম্পদ যাতে দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া না যায়, তা নিশ্চিত করাই এর লক্ষ্য। বিবৃতিতে বলা হয়, সতর্কতামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে মাদুরো এবং তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সুইজারল্যান্ডে থাকা যে কোনো সম্পদ জব্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সম্পদ জব্দ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী চার বছর বহাল থাকবে—যতক্ষণ না নতুন সিদ্ধান্ত আসে।
সুইস সরকার আরো জানায়, ভবিষ্যতের কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় যদি প্রমাণিত হয় যে এই অর্থ অবৈধভাবে অর্জিত, তবে সুইজারল্যান্ড নিশ্চিত করবে যেন তা ভেনেজুয়েলার জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া এই ব্যবস্থা বর্তমান ভেনেজুয়েলা সরকারের কোনো সদস্যের ওপর প্রভাব ফেলবে না বলেও জানানো হয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মাদক-সন্ত্রাসবাদের অভিযোগের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। শুনানিতে বিচারকের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি একজন সজ্জন ব্যক্তি এবং আমি এখনো আমার দেশের প্রেসিডেন্ট। নিউইয়র্কের একটি আদালতে এই ঐতিহাসিক বিচার প্রক্রিয়ার সময় মাদুরো তাঁর বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। একই শুনানিতে মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসও তার বিরুদ্ধে আনা মাদক সংক্রান্ত অভিযোগের বিপরীতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। মার্কিন কৌঁসুলিরা মাদুরো ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের সাথে জড়িত থাকার এবং যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ কোকেন পাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে, মাদুরো এই পুরো বিচার প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ওয়াশিংটনের ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন। আদালত চত্বরে এই হাই-প্রোফাইল মামলার শুনানি চলাকালীন গ্রহণ করা হয় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সূত্র: আরব নিউজ, রয়টার্স
