গ্রিনল্যান্ডে কি আসলেই চীন ও রাশিয়ার জাহাজের ছড়াছড়ি?

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। হোয়াইট হাউসের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলা এবং মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রিনল্যান্ডকে একটি অগ্রাধিকারমূলক লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন ট্রাম্প।

গত ৪ জানুয়ারি এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেন, গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে রুশ ও চীনা জাহাজে ছেয়ে গেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি। হোয়াইট হাউস স্পষ্ট করেছে, এই কৌশলগত দ্বীপটি হস্তগত করার জন্য প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিকল্পটিও তাদের বিবেচনায় রয়েছে।

তবে ট্রাম্পের এই দাবি নিয়ে খোদ সামরিক পর্যবেক্ষক ও সামুদ্রিক তথ্য বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মেরিটাইম ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ডের আশেপাশে রুশ বা চীনা জাহাজের অস্বাভাবিক কোনো উপস্থিতির প্রমাণ মেলেনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আর্কটিক অঞ্চলের বরফ গলতে শুরু করায় সেখানে নতুন নৌপথ এবং খনিজ সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায় বড় শক্তিগুলো। মূলত এই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতেই যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে চাইছে। বিশেষ করে গ্রিনল্যান্ডে থাকা প্রচুর পরিমাণ বিরল খনিজ সম্পদ এবং এর কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান পেন্টাগনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের স্থানীয় সরকার যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাব ও হুমকির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এক কড়া বিবৃতিতে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয় এবং কোনো মিত্র রাষ্ট্রের ভূখণ্ড দখলের হুমকি দেওয়া আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিকভাবে কোনো ন্যাটো মিত্রের ওপর হস্তক্ষেপের চেষ্টা করে, তবে এই সামরিক জোটের ভবিষ্যৎ অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেনও এই মন্তব্যকে ‘অসম্মানজনক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সূত্র: আল জাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights