টানা পাঁচ দিন ধরে শৈত্যপ্রবাহের কবলে চুয়াডাঙ্গা, ভোগান্তি চরমে

অনলাইন ডেস্ক
চুয়াডাঙ্গায় টানা পাঁচ দিন ধরে মাঝারি থেকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। শীতের তীব্রতায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি। সকাল থেকে কিছুটা রোদের দেখা মিললেও ঘন কুয়াশা ও উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা হিমেল বাতাসে শীতের প্রকোপ বেড়েছে কয়েক গুণ।

ভোর থেকে মধ্যবেলা পর্যন্ত ঘন কুয়াশার কারণে সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। খুব প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৩ শতাংশ।

এর আগের দিন বৃহস্পতিবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শীত ও হিমেল বাতাসে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর ও ছিন্নমূল জনগোষ্ঠী। শীতের কারণে অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন তারা। ব্যাহত হচ্ছে কৃষিকাজ ও ছোটখাটো ব্যবসা-বাণিজ্য।

শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতজনিত রোগের সংক্রমণও আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শয্যাসংকট দেখা দিয়েছে। বাধ্য হয়ে অনেক রোগীকে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে রোগী ও স্বজনদের পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্সদের ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, জেলার চারটি উপজেলায় শীতার্ত মানুষের ১৭ হাজার ৬৪৬টি কম্বল বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি ১৭ লাখ টাকা নগদ অর্থসহায়তাও এসেছে। সে টাকা দিয়ে শীতার্ত মানুষের জন্য শীতবস্ত্র কিনে বিতরণ করা হবে।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান বলেন, দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কম থাকায় শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা এমনই থাকতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights