লালি গুড় তৈরিতে ব্যস্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া, যাচ্ছে দেশের নানা জেলায়

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে শীত মৌসুমে জমে উঠেছে আখের রসের লালি গুড় তৈরির কর্মযজ্ঞ। প্রাচীন পদ্ধতিতে তৈরি এই লালির স্বাদে শীতের পিঠা-পুলি পায় আলাদা মাত্রা। স্থানীয় চাহিদা ছাড়িয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের লালি এখন জায়গা করে নিচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলার শীতের খাদ্য তালিকায়।

লালি তৈরিতে সম্পৃক্তরা জানিয়েছেন, উপজেলায় অর্ধশতাধিক পরিবার আখের রস থেকে লালি তৈরির কাজ করছেন। প্রতি কেজি লালি পাইকারদের কাছে বিক্রি হয় ১৭০ টাকা দরে। প্রতিদিন গড়ে এক হাজার কেজি লালি তৈরি হচ্ছে এ অঞ্চলে।

তারা জানান, লালি তৈরিতে এখনও প্রাচীন পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। মহিষ দিয়ে মাড়াই করা আখের রস সংগ্রহ করে চুলায় দীর্ঘসময় জ্বাল দিতে হয়। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে লালি তৈরির কাজ।

উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের লালি তৈরির কারিগর মো. ছিদ্দিক মিয়া জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ১৫ হাজার টাকায় এক কানি জমির আখ কিনেছেন। সব খরচ বাদ দিয়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা লাভ হওয়ার আশা করছেন তিনি।

আরেক কারিগর সাধন মিয়া বলেন, আগে বাজারে নিয়ে লালি বিক্রি করতেন। এখন পাইকাররাই বাড়িতে এসে লালি নিয়ে যান। শীতের সময় লালির ব্যবসা করে ভালো আয় হয়।

কৃষি অফিস সূত্র জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ২৭ হেক্টর জমিতে আখের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ হাজার ৮৩৫ টন। যার বেশির ভাগ ব্যবহৃত হচ্ছে লালি উৎপাদনে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপ-পরিচালক মোস্তফা এমরান হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ টাকার টাকার লালি বিক্রি হবে। স্বাস্থ্যসম্মত লালি গুড় উৎপাদনে নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights