রৌমারী ঘাটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়; ভিডিও করায় সাংবাদিকের ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ
নুরনবী মিয়া, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার একটি নৌ-ঘাটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অনিয়মের ভিডিও ধারণ করায় এক সাংবাদিকের মোবাইল ফোন জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঘাট ইজারাদার পক্ষের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘাট এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরে ধারণকৃত ভিডিওটি দৈনিক কালেরকণ্ঠের মাল্টিমিডিয়া প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ হলে তা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। জনচাপের মুখে সাংবাদিকের উপস্থিতিতেই যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা অতিরিক্ত ভাড়া ফেরত দিতে বাধ্য হয় ঘাট কর্তৃপক্ষ। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘাট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় থেকে যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে আসছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে বিভিন্ন প্রকার ভয় ভীতি প্রদর্শন করা হয়।
ভুক্তভোগী সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার্থী আমিনুল ইসলাম জানান, টোকেনে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছিল। টোকেনে যে ভাড়া লেখা আছে, আমি সেটাই দিতে চাই। অতিরিক্ত ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আমাকে যেতে দেবে না বলে গালিগালাজ ও হুমকি দেয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সাংবাদিক সোহেল রানা স্বপ্ন। অনিয়মের প্রমাণ সংগ্রহে তিনি ভিডিও ধারণ শুরু করলে ইজারাদার পক্ষের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে শফি আলম নামের এক টিকিট মাস্টার সাংবাদিকের হাত থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভিডিও ধারণ বন্ধ করতে হুমকি দেয় বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার সময় উপস্থিত যাত্রী নাঈম হোসেন বলেন, যাত্রী বেশি দেখে ঘাট কর্তৃপক্ষ ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছিল। সাংবাদিক ভিডিও করতেই তার ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। আমরা প্রতিবাদ করলে নৌকা ছাড়বে না বলে ভয় দেখানো হয়। এ ঘটনায় আশপাশের যাত্রীরা প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক সোহেল রানা স্বপ্ন বলেন, টোকেনের বাইরে কেন অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। সাংবাদিক পরিচয় জানানোর পরও এমন আচরণ করা হয়েছে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি হামলা।
এ বিষয়ে উপস্থিত ইজারাদার পক্ষের লোকজন দাবি করেন, দেড় কোটি টাকা দিয়ে ঘাট নিয়েছি। ভাড়া বেশি মনে হলে যাইবেন না।
তবে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলাউদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি এবং ভিডিও দেখেছি। দ্রুত পোর্ট অফিসারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
