ইরানে গ্রেফতার বিক্ষোভকারীদের শাস্তির প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক
ইরানে বিক্ষোভের সময় গ্রেফতার ব্যক্তিদের শাস্তি দেওয়া শুরু হচ্ছে। দেশটির প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসাইন মোহসেনি-এজেই এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন। এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, এজেই ও স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ বিক্ষোভকারীদের শাস্তি দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

ইরানের শাসকরা আন্দোলনের শুরু থেকেই বিক্ষোভকারীদের ‘দাঙ্গাবাজ’ হিসেবে উল্লেখ করছেন। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে এক্সে দেওয়া পোস্টে সোমবার এজেই লিখেন, ‘সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিচার বিভাগের মূল কাজ শুরু হয়েছে। যে ছাড় পাওয়ার যোগ্য নয়, তাকে যদি ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে সেটি ন্যায়ের পরিপন্থী হবে।’

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট, প্রধান বিচারপতি ও স্পিকারের বৈঠক নিয়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে যৌথ বিবৃতি প্রচার করা হয়। এতে বলা হয়েছে, ‘খুনি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উসকানিদাতাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ ইরানি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিক্ষোভে অস্ত্র সরবরাহ ও অর্থায়ন করেছে।

গত ২৮ ডিসেম্বর বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রায় প্রতিদিনই নতুন করে গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সোমবার কেরমান, ইসফাহান, মাজানদারান, শিরাজ ও বান্দার আনজালিতে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে সরকারি ভবন ও বিভিন্ন স্থাপনায় হামলাকারীরা আছেন।

পুলিশের প্রধান আহমদরেজা রাদান ঘোষণা দিয়েছেন, যারা ‘প্রতারিত’ হয়ে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন তারা যদি তিনদিনের মধ্যে আত্মসমর্পণ করেন তাহলে কম শাস্তি পাবেন।

এদিকে বিক্ষোভ থেমে থাকলেও ইরানে এখনও পুরোপুরি ইন্টারনেট সচল হয়নি। গত শনিবার সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি তার বক্তব্যে ‘কয়েক হাজার’ মানুষ নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তেহরানের শাসকদের দাবি, এতো সংখ্যক মানুষ নিহত হওয়ার পেছনে রাষ্ট্রীয় বাহিনী নয় বরং বিদেশি শক্তির সঙ্গে যুক্ত এজেন্টরা দায়ী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights