দিনভর বিক্ষোভ-রাতভর বৈঠকের পর ইউএপি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
দিনভর বিক্ষোভ ও গভীর রাত পর্যন্ত বৈঠকের পর আপাতত আন্দোলনে ইতি টেনেছে বেসরকারি ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায়ে গতকাল সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে প্লাজা এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত টানা স্লোগান ও অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান আন্দোলনকারীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ডের সঙ্গে গভীর রাত পর্যন্ত বৈঠকের পর কিছু দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাসে আপাতত আন্দোলন স্থগিত করার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে শিক্ষার্থীদের কয়েকদিনের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন।

গত সন্ধ্যায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে বসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড। রাত ১২টা পর্যন্ত চলা এ বৈঠকে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান কেএম মোজিবুল হক, আন্দোলনকারী ২৩ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, উপাচার্যের পদত্যাগসহ ১৯ দফা দাবি ছিল তাদের। বিভিন্ন দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও লিখিত কোনো নথি দেওয়া হয়নি। উপাচার্যের মেয়াদ কম থাকায় তাঁকে অপসারণের সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে অন্য কিছু দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস পাওয়ায় আপাতত আন্দোলন থেকে সরে এসেছেন তারা।

গতকাল সরেজমিনে ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা গেছে, শতাধিক শিক্ষার্থী ফার্মগেট এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের ভেতরে বসে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। আন্দোলনকারীরা উপাচার্যকে পুতুল আখ্যা দিয়ে তাঁর পদত্যাগসহ ১৯ দফা দাবি তুলে ধরেন।

শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া কোনো শিক্ষার্থীকে হেনস্তা না করা, উপাচার্য, ট্রেজারার এর পদত্যাগ, স্থায়ী ক্যাম্পাসের বাইরে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য নামাজ কক্ষের ব্যবস্থা, হিন্দু ধর্মালম্বীদের জন্য পূজা আয়োজনের ব্যবস্থা, ভূমিকম্প ঝুঁকি বিবেচনায় আন্ডারগ্রাউন্ডে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ।

এছাড়া পবিত্র রমজান মাসে মিডটার্ম বা ফাইনাল পরীক্ষা না রাখা, রমজান মাসে একাডেমিক কার্যক্রম ২০ রোজার মধ্যে শেষ করা, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগের দাবিও জানান তারা।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, ১৯ দফা দাবিতে কয়েকদিন ধরে আন্দোলন চললেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখন পর্যন্ত মাত্র একটি দাবি মেনে নিয়ে হিজাব নিয়ে কটূক্তিকারী দুই শিক্ষককে বহিষ্কার করেছে। তারা বহিষ্কৃত শিক্ষক লায়েকা বশীর, এএসএম মহসীন কে কোনো মহলের চাপে পুনরায় ক্যাম্পাসে ফেরানো না করার দাবি জানান।

এদিকে দুই শিক্ষক বহিষ্কারের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের বিবৃতিতে আন্দোলনকারীদের দঙ্গলবাজ আখ্যা দেওয়ার অভিযোগ তুলে এ সংগঠনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights