সিন্ডিকেট চক্রে জিম্মি প্রশিক্ষণার্থীরা

সাইদ মেমন, বরিশাল

সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী একই পদে বা কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি কর্মরতদের বদলি করা হয়। কিন্তু বরিশাল কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) এ আইন নেই। কয়েকজন প্রশিক্ষক চাকরির শুরু থেকে অর্থাৎ ২১ বছর ধরে এ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত! অধ্যক্ষও আছেন সাত বছর ধরে। দীর্ঘদিন ধরে এখানে থাকার কারণে তারা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সিন্ডিকেটে বন্দি প্রশিক্ষণার্থীরা। তাদের অভিযোগ, সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে কোর্স ফির টাকা না দিয়ে উল্টো হয়রানি করেন।

জানা গেছে, ২০১৯ সালের মার্চে বরিশাল টিটিসিতে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন প্রকৌশলী মো. গোলাম কবির। যোগদানের পর থেকে তিনি এখানেই দায়িত্ব পালন করছেন। প্রশিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান ১৯৯৩ সাল থেকে, ফিরোজ হোসেন খান ১৯৯৪ সাল থেকে, খান মাহবুব হোসেন ১৯৯৫ সাল থেকে, আনোয়ার হোসেন, বিলকিস আরা বেগম ও নমিতা রানী ২০০১ সাল থেকে, প্রশিক্ষক লায়লা আফরো ২০০৩ সাল থেকে, গণিতের শিক্ষক শহিদুল ইসলাম ২০০৪ সাল থেকে, মো. মাহমুদ হোসেন ২০২১ সাল থেকে, শিহাবুর রহমান গাজী ২০২২ সাল থেকে বরিশাল টিটিসিতে কর্মরত আছেন। প্রতিষ্ঠানটির প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগ, অদৃশ্য শক্তির আশীর্বাদে তারা দীর্ঘদিন একই প্রতিষ্ঠানে থাকার কারণে গড়ে তুলেছেন সিন্ডিকেট। তাই তাদের সঙ্গে কেউ আপস না করলে তাকে সুবিধাবঞ্চিত করে একঘরে করে রাখা হয়।

অভিযোগকারীরা বলেন, গত সাত বছর ধরে অধ্যক্ষ হিসেবে থাকা প্রকৌশলী মো. গোলাম কবির নিজেদের পছন্দের প্রশিক্ষকদের নিয়ে এই সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। সুবিধা নেয়ার জন্য এখানকার ২০ জনের মধ্যে ৭-৮ জন সিন্ডিকেটে রয়েছেন। যার কারণে প্রতিষ্ঠানটি চলে সিন্ডিকেটের ইচ্ছে অনুযায়ী। অভিযোগ দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেন না অধ্যক্ষ।

প্রশিক্ষনার্থীদের অভিযোগ, এক প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে থাকার কারণে তারা যা খুশি তাই করেন। এ বিষয়ে অধ্যক্ষ মো. গোলাম কবির বলেন, কোনো প্রশিক্ষণার্থী অভিযোগ নিয়ে আসেনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দীর্ঘদিন এক স্থানে চাকরি করার বিষয়টি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights