হোয়াইট হাউসে পুতিনের ছবি টাঙিয়ে তীব্র বিতর্কের মুখে ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজের বাসভবন ও কর্মস্থল হোয়াইট হাউসে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তোলা একটি ছবি টাঙিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত আগস্টে আলাস্কা সম্মেলনের সময় তোলা এই ছবিটি হোয়াইট হাউসের ‘পাম রুমে’ স্থান পেয়েছে, যা প্রেসিডেন্টের বাসভবন ও ওয়েস্ট উইংকে সংযুক্ত করে।

পুতিনের সঙ্গে এই ছবির ঠিক নিচেই সমমাপের সোনালি ফ্রেমে ট্রাম্পের ছয় বছর বয়সী নাতনি ক্যারোলিনা ডরথি ট্রাম্পের একটি ছবি রাখা হয়েছে।

পুতিনের পাঠানো এই ছবিটি নিয়ে গত আগস্টেই ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের কাছে ট্রাম্প বলেছিলেন, ছবিতে আমাকে ঠিকঠাক লাগলেও তাকে (পুতিন) বেশ চমৎকার লাগছে। তিনি এটি আমাকে পাঠিয়েছেন, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। ট্রাম্প আরও জানিয়েছিলেন, তিনি ছবিটি অটোগ্রাফসহ পুতিনকে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা করছেন।

ইউক্রেন আক্রমণের পর প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পুতিনের সরাসরি সাক্ষাতের এই ছবি হোয়াইট হাউসের দেয়ালে স্থান পাওয়া নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমেরিকান জনগণ এবং নিজের পরিবারের ওপরে পুতিনকে স্থান দেওয়া হচ্ছে। এটি একটু বেশিই দৃষ্টিকটু।

এস্তোনিয়ার সংসদীয় পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান মার্কো মিকেলসন এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, যদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট একজন যুদ্ধাপরাধীর ছবি হোয়াইট হাউসের দেয়ালে রাখা উপযুক্ত মনে করেন, তবে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য আমাদের আরও অপেক্ষা করতে হবে। এটি দুর্ভাগ্যজনক।

অন্যদিকে, রাশিয়া এই ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে। রাশিয়ার শীর্ষ আলোচক কিরিল দিমিত্রিভ মন্তব্য করেন, বেশ ভালো। একটি ছবি হাজার শব্দের কথা বলে।

গত আগস্টে অ্যাঙ্কোরেজে তিন ঘণ্টাব্যাপী সেই বৈঠকে কোনো সুনির্দিষ্ট শান্তিচুক্তি সম্পন্ন হয়নি। পুতিন বৈঠকটিকে শান্তির পথ প্রশস্ত করার পদক্ষেপ বললেও ট্রাম্প সতর্ক মন্তব্য করে বলেছিলেন, চুক্তি হওয়ার আগে কোনো কিছুই চূড়ান্ত নয়।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধ থামানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও পুতিনের প্রতি ট্রাম্পের আচরণ বরাবরই বৈচিত্র্যময়। কখনো তিনি পুতিনের প্রশংসা করেন, আবার কখনো তাকে ‌‌‌‘উন্মাদ’ বলে আখ্যা দেন। তবে আলাস্কায় পুতিনকে ‘দ্য বিস্ট’ নামক প্রেসিডেন্সিয়াল লিমুজিনে চড়িয়ে ট্রাম্প যে রাজকীয় অভ্যর্থনা দিয়েছেন, তা বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য না করলেও একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের সাক্ষাতের ছবি হোয়াইট হাউসে প্রদর্শন করা একটি নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। এগুলো সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন করা হয়।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights