ইরানে মার্কিন হামলা হলে কী পরিণতি হতে পারে? সম্ভাব্য ৭টি চিত্র

অনলাইন ডেস্ক

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে সামরিক হামলা চালাতে পারে মার্কিন বাহিনী- এমন জল্পনা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু অনেকটা অনুমানযোগ্য হলেও, এই হামলার পরিণতি কী হবে তা অনিশ্চিত।

শেষ মুহূর্তে তেহরানের সঙ্গে কোনও সমঝোতা না হলে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি হামলার নির্দেশ দেন, তবে কী কী ঘটতে পারে- তা নিয়ে সম্ভাব্য সাতটি চিত্র তুলে ধরেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।

১. সীমিত ও নির্দিষ্ট হামলা, শাসন পরিবর্তন ও গণতন্ত্রে উত্তরণ

এই চিত্রে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি), তাদের অধীন বাসিজ বাহিনী, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও পরমাণু কর্মসূচিকে লক্ষ্য করে নির্দিষ্ট ও সীমিত হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও নৌবাহিনী। এর ফলে দুর্বল হয়ে পড়া বর্তমান শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। ইরান ধীরে ধীরে গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে পারে। তবে ইরাক ও লিবিয়ার অভিজ্ঞতা বলছে, বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপে গণতান্ত্রিক রূপান্তর সহজ হয় না।

২. শাসন টিকে থাকবে, তবে নীতিতে নরম ভাব

দ্বিতীয় চিত্রটি হল ‘ভেনেজুয়েলা মডেল’। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী হামলার পরেও শাসনব্যবস্থা টিকে রয়েছে। আর নীতিতে কিছুটা সংযম দেখিয়েছে ওয়াশিংটন। ইরানের ক্ষেত্রে এর অর্থ- আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন কমানো, পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে লাগাম এবং অভ্যন্তরীণ দমননীতি শিথিল করা। তবে ৪৭ বছর ধরে অনড় থাকা তেহরানের নেতৃত্বের ক্ষেত্রে এই সম্ভাবনাও খুব একটা বাস্তবসম্মত নয়।

৩. শাসন ভেঙে সামরিক সরকারের উত্থান

অনেকের মতে এটি সবচেয়ে সম্ভাব্য পরিণতি। দীর্ঘদিনের বিক্ষোভে সরকার দুর্বল হলেও নিরাপত্তা কাঠামো এখনও শক্তিশালী। মার্কিন হামলার পর সৃষ্ট অস্থিরতায় আইআরজিসি-নির্ভর একটি কঠোর সামরিক সরকার ক্ষমতা দখল করতে পারে।

৪. মার্কিন ঘাঁটি ও প্রতিবেশী দেশগুলিতে ইরানের পাল্টা হামলা

ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, হামলা হলে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি- বিশেষ করে বাহরাইন ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোতেও হামলার আশঙ্কা রয়েছে।

৫. উপসাগরে নৌ-মাইন পাতা

হরমুজ প্রণালীতে নৌ-মাইন পেতে বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা দিতে পারে ইরান। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথেই পরিবাহিত হয়। এর প্রভাব আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে প্রভাব ফেলবে।

৬. মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলা

ইরানের ‘সোয়ার্ম অ্যাটাক’ কৌশলে ড্রোন ও দ্রুতগামী নৌকা দিয়ে একযোগে হামলা চালিয়ে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত বা ডুবিয়ে দেওয়ার ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এমন ঘটনা ঘটলে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের সামরিক ও রাজনৈতিক অপমান হবে।

৭. শাসন পতনের পর চরম বিশৃঙ্খলা

সবচেয়ে ভয়াবহ আশঙ্কা হলো- শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পর ইরান গৃহযুদ্ধ ও জাতিগত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে। কুর্দি, বালুচি-সহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত শুরু হলে তা বড় মানবিক সংকট ও শরণার্থী সমস্যার জন্ম দেবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশই ইরানের বর্তমান শাসনের পতন দেখতে চাইলেও ৯ কোটি ৩০ লাখ জনসংখ্যার এই দেশটি অরাজকতায় ডুবে যাক- তা কেউই চায় না। আশঙ্কা এখানেই- রাজনৈতিক চাপ ও শক্তি প্রদর্শনের তাগিদে যুক্তরাষ্ট্র যদি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, তবে তার শেষ পরিণতি কী হবে, তা কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারছে না। সূত্র: বিবিসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights