আলোচনা চলছে, তবুও কি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ অনিবার্য?

অনলাইন ডেস্ক
আলোচনার টেবিলে বসেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান। একদফা কথাবার্তাও হয়েছে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে। তবে উত্তেজনা কিংবা সংশয় কমেনি। অনেকেই তাই প্রশ্ন তুলছেন, আলোচনার টেবিলের সংলাপের মাঝেই কি যুদ্ধে জড়াবে দুই দেশ?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমনের জেরে অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি ব্যাপক হারে বাড়িয়ে দিলেও তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা কোনো ধরনের শক্তির ভাষার কাছে মাথা নত করবে না।

রবিবার এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবহরের উপস্থিতি তাদের জন্য ভয়ের কারণ নয়। তিনি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রয়োজনে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হলেও ইরান তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি থেকে এক চুলও সরবে না। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ইরান কোনো শক্তির চাপ মেনে নিতে বাধ্য নয়।

এদিকে ওমানে দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার একটি প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। এই আলোচনাকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক ধাপ অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে লিখেছেন, ইরান সবসময় সম্মানের বদলে সম্মান প্রদর্শন করে। পারমাণবিক ইস্যুতে ইরানের যুক্তি আন্তর্জাতিক চুক্তির ওপর ভিত্তি করেই প্রতিষ্ঠিত।

তবে তেহরান যখন আলোচনার টেবিলে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই গত জানুয়ারি থেকে এই অঞ্চলে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনসহ ডজনখানেক এফ-ফিফটিন যুদ্ধবিমান ও অত্যাধুনিক ড্রোন মোতায়েন করেছে পেন্টাগন। এই সামরিক মহড়াকে ইরান ভালো চোখে দেখছে না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি একে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিমুখী আচরণ হিসেবে দেখছেন। তার মতে, একদিকে নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক ভীতি প্রদর্শন আর অন্যদিকে আলোচনার প্রস্তাব—যুক্তরাষ্ট্রের সদিচ্ছাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

ইসরায়েলের সঙ্গে গত বছরের সংক্ষিপ্ত যুদ্ধের পর এই প্রথম ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সরাসরি না হলেও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনায় বসেছে। ইরান চাইছে তাদের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হোক, বিনিময়ে তারা পারমাণবিক কর্মসূচিতে কিছুটা স্বচ্ছতা আনতে রাজি। কিন্তু ওয়াশিংটন ও ইসরায়েল চাইছে এই আলোচনায় ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রসঙ্গও অন্তর্ভুক্ত করতে। ইরান সরাসরি এ প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে।

পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের পারমাণবিক বোমা তৈরির আশঙ্কার কথা বললেও তেহরান তা অস্বীকার করে বলেছে, তাদের মূল শক্তি কোনো বোমা নয় বরং বড় শক্তিগুলোর অন্যায্য দাবিকে ‘না’ বলতে পারার সক্ষমতা।

ফলে কোথাকার জল কোথায় গড়াবে, যুদ্ধ নাকি শান্তি? সেই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে আসন্ন বৈঠকগুলোর ওপর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights