তিন বছরের মধ্যেই চলে যাবেন ট্রাম্প, ইউরোপকে ডেমোক্র্যাটদের আশ্বাস

অনলাইন ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর ইউরোপের সঙ্গে টানাপোড়েন চলছে ‍যুক্তরাষ্ট্রের। গ্রিনল্যান্ড এবং শুল্কনীতিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে উভয়পক্ষের মধ্যে প্রায়ই উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে।

এমতাবস্থায় ইউরোপীয় নেতাদের আশ্বস্ত করছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ডেমোক্র্যাটরা। তারা বলছেন, তিন বছরের মধ্যেই চলে যাবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

অপরদিকে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বক্তব্যে ইউরোপের সঙ্গে একত্রে কাজ করার আহ্বান। এই সম্মেলনে তিনি ছিলেন মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে। শনিবার তার বক্তব্যে তিনি কী বলেন তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন ইউরোপীয় নেতারা।

যদিও তার ভাষণ ইউরোপীয় দেশগুলোর নেতাদের উদ্বেগ পুরোপুরি দূর করতে পারেনি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে মার্কিন সম্পর্ক ফিকে হয়ে গেলেও তা ভাঙবে না বলে আশা দেখানো হচ্ছে।

তবে নিরাপত্তা সম্মেলনে রুবিওর বক্তব্যই যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর ছিল না। গত বছরের সম্মেলনে ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইউরোপীয় নেতাদের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শনিবার উদ্বিগ্ন ইউরোপকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, ওয়াশিংটন ট্রান্সআটলান্টিক জোটকে পুনরুজ্জীবিত করতে চায়। এটি এমন এক জোট, যেখানে শক্তিশালী ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক ‘সংস্কার’ মিশনে সহায়তা করবে।

শনিবার মিউনিখের নিরাপত্তা সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন রুবিও। গত কয়েক মাসে মার্কিন-ইউরোপীয় সম্পর্ক বেশ টানাপড়েনের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের ঘোষণা ও মিত্র দেশগুলোকে নিয়ে তার বিদ্রুপাত্মক মন্তব্যের কারণে। সেই প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের শীর্ষ কূটনীতিকের ভাষা এদিন ছিল বেশ নরম ও আশ্বস্তমূলক।

অপরদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম বলেন, আজ আমাদের কিছু বলা উচিত। আপনাদের আশ্বস্ত করছি, ডোনাল্ড ট্রাম্প অস্থায়ী। তিনি তিন বছরের মধ্যে চলে যাবেন।

নিউসমের সঙ্গে সে সময় কয়েক ডজন মার্কিন আইন প্রণেতা এবং গভর্নর উপস্থিত ছিলেন যাদের মধ্যে অনেকেই ডেমোক্র্যাট শিবিরের।

অনেকেই জোর দিয়ে বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের সঙ্গে একটি শক্তিশালী অংশীদার হিসেবে থাকবে। নিউ হ্যাম্পশায়ারের ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর জিন শাহীন বলেন, আমরা এখানে আসার কারণ হলো আমাদের ইউরোপীয় মিত্ররা কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা যে আমরা বুঝতে পারি তা নিশ্চিত করা।

উপস্থিত রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস তার কথার প্রতিধ্বনি করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপ ‌‘গৃহযুদ্ধে’র মধ্যে নেই। তিনি আমেরিকার মিত্রদের ‘আমেরিকান রাজনীতির বক্তৃতাবাজি’তে আটকা না পড়ার জন্য সতর্ক করেছেন। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights