পরিসংখ্যান ভারতের পক্ষে, চমকের অপেক্ষায় পাকিস্তান

স্পোর্টস ডেস্ক
কয়েক সপ্তাহের গোপন ও প্রকাশ্য কূটনীতি, রাতভর আলোচনা এবং সরকারি পর্যায়ের হস্তক্ষেপের পর অবশেষে মাঠে গড়াচ্ছে বহুল আলোচিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রিকেট বোর্ডের সমন্বয়ে ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যরাতে সমঝোতার মাধ্যমে ম্যাচ আয়োজন নিশ্চিত হয়।

রবিবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে শুরু হওয়ার কথা এই মহারণ। তবে নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে আবহাওয়া। পূর্ব দিকের মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ম্যাচ চলাকালীন বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। ম্যাচের আগে ও পরে ২৪ ঘণ্টায় আবহাওয়া আরও খারাপ হতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। এতে প্রায় ১৬ হাজার ভারতীয় সমর্থকসহ পাকিস্তানি ও স্থানীয় দর্শকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২৮ হাজার দর্শক ধারণক্ষম এই স্টেডিয়ামে গ্যালারি পূর্ণ হওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টি বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

পিচের চরিত্রও আলোচনায়। প্রেমাদাসার উইকেট সাধারণত ধীরগতির এবং স্পিনারদের সহায়তা করে। এবারের আসরে এখানে খেলা তিন ম্যাচে রান হয়েছে তুলনামূলক কম, স্কোর ঘোরাফেরা করেছে ১৬০ থেকে ১৮০–এর মধ্যে। তাই স্পিন আক্রমণ হতে পারে বড় ফ্যাক্টর। পাকিস্তানের ডানহাতি অফস্পিনার উসমান তারিকের অপ্রচলিত বোলিং ভ্যারিয়েশন মিডল ওভারে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে যখন ভারত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়।

Ind vs pak

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অবশ্য পাকিস্তানের পক্ষে খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। গত ১০ বছরে ভারতের বিপক্ষে তারা জিতেছে মাত্র তিনটি ম্যাচ। এর মধ্যে দুটি স্মরণীয় জয় ১৮০ রান ও ১৫২-০ এখনও সমর্থকদের আলোচনায়। তবে বাকি ১৭ ম্যাচেই হেরেছে পাকিস্তান।

সাম্প্রতিক আসর এশিয়া কাপেও তিন ভিন্ন উপায়ে পাকিস্তানকে হারিয়েছে ভারত। প্রথমে বল হাতে, পরে ব্যাটিং শক্তিতে এবং শেষ ম্যাচে মানসিক দৃঢ়তায়। ভারতের টপ অর্ডার টি-টোয়েন্টিতে অত্যন্ত শক্তিশালী, মিডল অর্ডার ভারসাম্যপূর্ণ, স্পিন বিভাগ বৈচিত্র্যময় এবং পেস আক্রমণে আছেন জসপ্রিত বুমরাহ। হার্দিক পান্ডিয়াও পাকিস্তানের বিপক্ষে বরাবরই কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন।

অন্যদিকে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপে সাহিবজাদা ফারহানের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স আশাবাদ জাগাচ্ছে। ভারতের বিপক্ষে অল্প ম্যাচ খেললেও তিনি ইতিবাচক সূচনা এনে দিয়েছেন এবং বুমরাহর মতো বোলারের বিপক্ষেও আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করেছেন।

টুর্নামেন্টের হিসাব অনুযায়ী ম্যাচটির প্রভাব খুব বড় নয়। দুই দলই প্রথম দুই ম্যাচ জিতে এগিয়ে আছে। হারলেও পরের রাউন্ডে ওঠার সম্ভাবনা প্রবল। তবু এই ম্যাচের গুরুত্ব আলাদা—এটি আত্মসম্মান, আধিপত্য ও মানসিক লড়াইয়ের প্রশ্ন।

মাঠের বাইরের আরেকটি বড় আলোচনার বিষয় করমর্দন। এশিয়া কাপের পর থেকে দুই দলের খেলোয়াড়রা ম্যাচের আগে ও পরে হাত মেলাচ্ছেন না। এবারও সেই অবস্থান বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আলী আগা জানিয়েছেন, বিষয়টি ভারতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব রহস্য ভাঙতে আরও ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষার কথা বলেছেন।

সব মিলিয়ে, এটি কেবল একটি ক্রিকেট ম্যাচ নয়; রাজনৈতিক আবহ, কূটনৈতিক চাপ, আবহাওয়া ও কৌশল সবকিছুর সম্মিলিত পরীক্ষায় নামছে ভারত ও পাকিস্তান। ফল যাই হোক, নজর থাকবে মাঠের ভেতর ও বাইরে—দুই জায়গাতেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights