গজারিয়ায় আইনশৃঙ্খলা অবনতির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয়রা। সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের তৎপরতা ও হাজী আব্দুল কাইয়ুম দেওয়ানের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনার বিচার দাবিতে তারা উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং এজাহারভুক্ত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় শফিউদ্দীন আহমেদ মিলনায়তনে ভুক্তভোগী পরিবারের উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, চারদিকে মেঘনা নদী বেষ্টিত হওয়ায় গুয়াগাছিয়া দীর্ঘদিন ধরে অপরাধীদের নিরাপদ চলাচলের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দক্ষিণে মতলব উত্তর, পূর্বে দাউদকান্দি এবং উত্তরে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের সংযোগ থাকায় এলাকাটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় দুই যুগ ধরে নয়ন ও পিয়াসের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র নদীপথে চাঁদাবাজি, ডাকাতি, মাদক চোরাচালান, অবৈধ অস্ত্রের মহড়া, ভূমি দখল ও বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত। তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ ৪০ থেকে ৪৫টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র ব্যবহার ও পুলিশ ক্যাম্পে হামলার ঘটনাও তদন্তাধীন বলে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, এ পরিস্থিতিতে অন্তত ২৫০টি পরিবার এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। চাঁদা না দিলে এলাকায় বসবাস করা যায় না—এমন অভিযোগও তোলেন বক্তারা।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও ভয়ভীতির অভিযোগ আনা হয়। বক্তারা দাবি করেন, প্রায় ৩০০ পরিবার সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছে। ভোটের দিন নদীপথে স্পিডবোটে অবস্থান এবং ফসলি জমিতে লুকিয়ে থাকার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়।
এলাকায় একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হলেও তা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না বলে অভিযোগ করা হয়। বহু মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে বলেও দাবি করা হয়।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি আছরের নামাজের পর হাজী আব্দুল কাইয়ুম দেওয়ানের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন বক্তারা। অভিযোগ করা হয়, পিয়াস ও শাহাদাতের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলেও দাবি করা হয়। ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন মাইন উদ্দিন দেওয়ান, আব্দুল হালিম দেওয়ান, ফাতেমা আক্তার ও উজ্জ্বল দেওয়ান।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সাত দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত, এজাহারভুক্ত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, বিচারাধীন হত্যা ও অন্যান্য মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি, অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পকে স্থায়ী ও শক্তিশালী করা, মুন্সীগঞ্জ–চাঁদপুর–কুমিল্লা জেলায় সমন্বিত বিশেষ অভিযান, নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ডের নিয়মিত টহল এবং বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা।
