সংরক্ষিত আসন ঘিরে কুড়িগ্রামে নতুন সমীকরণ বিএনপির মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় বাড়ছে প্রত্যাশা
নুরনবী মিয়া, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ৩৫ জন নারী সংসদ সদস্য মনোনয়নের প্রক্রিয়া শুরুর খবরে কুড়িগ্রামের রাজনীতিতে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আলোড়ন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে যাচাই-বাছাই চলছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে জেলাজুড়ে সম্ভাব্য নারী নেত্রীদের তৎপরতা ও লবিং-দৌড়ঝাঁপ চোখে পড়ার মতো হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে কুড়িগ্রামের চারটি সংসদীয় আসনের একটিতেও বিএনপি বিজয়ী হতে পারেনি। তবে স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, ভোটারের সাড়া কম ছিল না; বরং ১১ দলীয় জোটের কৌশলগত সমন্বয় ও রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণেই পরাজয় এসেছে। এ অবস্থায় সংরক্ষিত নারী আসনে একজন প্রতিনিধি মনোনীত হলে জেলার সাংগঠনিক শক্তি পুনর্গঠনের পাশাপাশি রাজনৈতিক ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উন্নয়নের প্রশ্নেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্য, নদীভাঙন ও চরাঞ্চলের পশ্চাৎপদতায় ভোগা কুড়িগ্রাম এখনো নানা সূচকে পিছিয়ে। ব্রহ্মপুত্র নদ ও ধরলা নদ অববাহিকার ভাঙনে প্রতিবছর অসংখ্য পরিবার বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। চরাঞ্চলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগব্যবস্থা এখনও নাজুক। কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতায় বেকারত্ব বাড়ছে। স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলোর মতে, এসব সমস্যা জাতীয় পর্যায়ে জোরালোভাবে তুলে ধরতে সংসদে একটি কার্যকর ও শক্তিশালী কণ্ঠ অত্যন্ত প্রয়োজন।
দলীয় ও রাজনৈতিক মহলে কয়েকজন নারী নেত্রীর নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মমতাজ হোসেন লিপি, কুড়িগ্রাম জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক মোসলেমা বেগম মিলি কায়কোবাদ, জেলা মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. নাজমুন নাহার বিউটি, বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ডাঃ রেয়ান আনিস, জেলা মহিলা দলের আহ্বায়ক রেশমা সুলতানা এবং যুগ্ম আহ্বায়ক শামীমা রহমান আপন রয়েছেন। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা ও সামাজিক সম্পৃক্ততার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত মনোনয়ন নির্ধারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দলীয় সূত্র জানায়, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে সাংগঠনিক দক্ষতা, জনগ্রহণযোগ্যতা, রাজনৈতিক অবদান এবং জেলার উন্নয়নে বাস্তবসম্মত ভূমিকা রাখার সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। কুড়িগ্রামবাসীর প্রত্যাশা, এবার অন্তত সংরক্ষিত নারী আসনের মাধ্যমে জেলার দীর্ঘদিনের অবহেলা কাটিয়ে একটি কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষায়, সংসদে কুড়িগ্রামের একজন নারী প্রতিনিধি মানে শুধু প্রতীকী পদ নয়; বরং নদীভাঙন, দারিদ্র্য ও বেকারত্বের মতো দীর্ঘস্থায়ী সংকটকে জাতীয় অগ্রাধিকারের তালিকায় তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কুড়িগ্রাম কি পাবে সেই কাঙ্ক্ষিত নারী সংসদ সদস্য, নাকি প্রত্যাশাই থেকে যাবে আলোচনার ঝড়ে। সেটিই দেখার অপেক্ষা।
