পরমাণু অস্ত্র বানাচ্ছে সৌদি?

অনলাইন ডেস্ক

সাম্প্রতিক ভূ-রাজনীতি এবং পরমাণু ইস্যুতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ঘিরে বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের সাথে বিশাল অংকের পরমাণু সহযোগিতা চুক্তি চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। এই চুক্তির আওতায় সৌদি আরবকে কয়েকশ কোটি ডলারের মার্কিন প্রযুক্তি এবং সরঞ্জাম সরবরাহ করা হতে পারে, যা দেশটিকে ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা এনে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে কঠোর বিধিনিষেধ না থাকায় এই চুক্তিটি নিয়ে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইতিপূর্বেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে তবে রিয়াদও সেই একই পথে হাঁটবে।

এদিকে সৌদি আরবের প্রতি নমনীয় হলেও ইরানের বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান বেশ কঠোর। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করতে বাধ্য করতে তিনি প্রয়োজনে দেশটিতে নতুন করে হামলার কথা বিবেচনা করছেন।

আগামী সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা শুরুর কথা থাকলেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই কড়া অবস্থান নতুন করে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। অন্যদিকে বৈশ্বিক নিরস্ত্রীকরণের ক্ষেত্রে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যকার ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়াকে। কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম বিশ্বের প্রধান দুই পারমাণবিক শক্তির মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি কার্যকর নেই। যদিও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স একটি নতুন কাঠামোর বিষয়ে আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। একই সাথে ইউক্রেনে জোরপূর্বক সেনাদলে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে চলমান অস্থিরতা এবং সামরিক কর্মকর্তাদের মারমুখী আচরণের বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: আরটি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights