বরাদ্দ সাড়ে ৮ হাজার, হাতে মিলেছে ১২শ’ টাকা, ক্ষুব্ধ আনসার সদস্যরা

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্যদের সরকারি ভাতা থেকে অর্থ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকার নির্ধারিত সাড়ে ৮ হাজার টাকার পরিবর্তে তাঁদের হাতে দেওয়া হয়েছে মাত্র ১ হাজার ২০০ থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা।

উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে উপজেলার ৭৫টি কেন্দ্রে মোট ৯৭৫ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিটি আনসারের জন্য ভাতা হিসেবে ৮ হাজার ২৬০ টাকা এবং যাতায়াত বাবদ ২৪০ টাকা বরাদ্দ ছিল। সব মিলিয়ে একজনের জন্য মোট বরাদ্দ দাঁড়ায় ৮ হাজার ৫০০ টাকা।

তবে একাধিক আনসার সদস্য অভিযোগ করেন, তাঁরা নির্ধারিত পুরো অর্থ পাননি।

স্থানীয় কয়েকজন আনসার সদস্য সিন্ডিকেট তৈরি করে দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষদের আনসার হিসেবে নিয়োগের ব্যবস্থা করে দেন। দায়িত্ব শেষে তাঁদের হাতে আংশিক টাকা তুলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

ভুক্তভোগী শাহানাজ বেগম জানান, নির্বাচনের তিন দিন আগে জেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণসহ মোট তিন দিন দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, “আমাকে মাত্র ১ হাজার ২০০ টাকা দেওয়া হয়েছে। বিকাশ নম্বর দিলেও সেখানে টাকা পাঠানো হয়নি। স্বপন নামে একজন এসে ১ হাজার ২০০ টাকা দিয়ে গেছেন।”

আরেক ভুক্তভোগী জানু বেগম বলেন, “শুনেছি অনেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকা পেয়েছে। কিন্তু আমি পেয়েছি ১ হাজার ২০০ টাকা। জানতে চাইলে বলা হয়, এবার এতটুকুই নেন, পরে বেশি দেওয়া হবে।”

অভিযোগের বিষয়ে স্বপন নামে এক ব্যক্তি বলেন, তাঁর মাধ্যমে প্রায় ৮০ জন কাজ করেছেন। তাঁদের মধ্যে ২৫ জন টাকা পেয়েছেন, বাকিরা পর্যায়ক্রমে পাবেন। তবে তিনি ১ হাজার ২০০ টাকা করে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, একজনের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা বণ্টন করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাগর, স্বপন, আলিনুর বেগম ও জিতুসহ কয়েকজন মিলে একটি চক্র গড়ে তুলেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, আনসারদের প্রকৃত মোবাইল নম্বরের পরিবর্তে নিজেদের নম্বর দাখিল করে বরাদ্দের টাকা নিজেদের হিসাবে গ্রহণ করা হয়। পরে দায়িত্ব পালনকারীদের হাতে আংশিক অর্থ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা আনসার ও ভিডিপি কমান্ড্যান্ট বিউটি আক্তার বলেন, “আমরা প্রশিক্ষণ দিয়ে সবাইকে নির্বাচনী ডিউটিতে দায়িত্ব দিয়েছি। জেলায় মোট ৬ হাজার ৯৭ জন ডিউটি করেছেন। সিসি অনুযায়ী নির্ধারিত নম্বরে টাকা পাঠানো হয়েছে। তবে অনেক সদস্য বিভিন্ন কমান্ডারের সঙ্গে চুক্তি করেছেন। তাঁদের হিসাবে টাকা গেলেও দালালদের মাধ্যমে বণ্টন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। যেসব আনসার-ভিডিপি সদস্য অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দরিদ্র মানুষের সঙ্গে এ ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে তা গুরুতর অপরাধ। তাঁরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights